হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৫ ডাক্তারের দেখা পায়নি দুদক 2

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৫ ডাক্তারের দেখা পায়নি দুদক

হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এতগুলো মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি চিকিৎসালয় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল।  রোগীর শয্যা, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংকট থাকলেও অন্যতম সংকট হচ্ছে ডাক্তার সংকট। ডাক্তার যে নেই তা নয়। তবে ডাক্তারের উপস্থিতি থাকে না তেমন একটা।

এ হাসপাতালে রয়েছে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ, মাদকসেবী ও দালালদের উৎপাত। এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও প্রতিকার মিলছে না।

তবে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় হাসপাতালে কর্মরত ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৫ জনকে উপস্থিত পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৫ ডাক্তারের দেখা পায়নি দুদক 3
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল।

৩১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করে দুদক হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. এরশাদের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা।

সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্টাফরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। আবার হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও নিজে বিশ্রম নিয়ে ইন্টার্নিদের দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।

এমন অভিযোগ জানতে পারে দুদক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকবার দুদক কর্মকর্তারা কৌশলে সাদা পোষাকে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় হাসপাতালে কর্মরত ২০ জন চিকিৎসকরের মধ্যে মাত্র ৫ জন চিকিৎসককে উপস্থিত পান দুদক কর্মকর্তারা। তাও আবার তাদেরকে নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে মাদকসেবী ব্যবসায়ী, দালাল ও অবিবেচক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের উৎপাতের বিষয়টি এখন চরম আকার ধারন করেছে। সন্ধার পরপরই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বসে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের মিলন মেলা। অনেক সময়ই এদের উৎপাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। যে কারণে মাঝে মাঝে ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা। শুধু তাই নয়, দালালদের দৌরাত্ম যেন দিনদিন বেড়েই চলেছে। রোগীকে প্রাইভেট হাসপাতালে ভাগিয়ে নিতে টানা হেঁচড়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র।

এ কাজে দালালদের সহযোগিতা করে থাকেন খোদ কর্মকর্তা কর্মচারীরাই। এ ছাড়া বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির অবিবেচক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিদের উৎপাতে চিকিৎসকরাই এখন বিব্রত। কাক ডাকা ভোর থেকেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুরু হয় তাদের উপচে পরা ভিড়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীদের সাথে তাদের অশ্লীল কাড়া কাড়ির দৃশ্যটি নূন্যতম শিষ্টাচারকেও হার মানায়।

সুত্র জানায়, হাসপাতালটিতে অনেকাংশেই ভেঙ্গে পড়েছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বা ‘চেইন অব কমান্ড’। দায়িত্ব পালনে ‘টপ টু বটম’ কেউই শুনছেন না কারো কথা। কোন্দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। যে কারণে সেবা ও প্রশাসনিক কাজে সৃষ্টি হয়েছে মন্থরগতি, চরম হযবরল অবস্থা। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + two =