হলিউড শহর জুড়ে রেড এলার্ট 2

হলিউড শহর জুড়ে রেড এলার্ট

কিছুতেই নিভছে না যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দাবানল। ভয়াবহ আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হলিউডের শহর লস এঞ্জেলেসেও। অঙ্গরাজ্যজুড়ে জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এদিকে গভীর দৃষ্টি রাখছেন জানিয়ে গভর্নর বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

যতদূর চোখ যায়, কেবল আগুন আর আগুন। একের পর একর রাস্তাঘাট, বাড়িঘর-স্থাপনা, মাঠ, বনাঞ্চল সবই পুড়ে ছাই হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আগুন নিয়ন্ত্রণে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। হেলিকপ্টার ও বিমানে করে পানি ছিটানো হচ্ছে। তবুও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না দাবানল। ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকায় আগুন ছড়াচ্ছে দ্রুত। কেবল উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াতেই ৭৬ হাজার একরের বেশি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিটামাটি বাঁচাতে আগুন নেভাতে কাজ করছেন স্থানীয়রাও।

স্থানীয়দের একজন বলেন, দমকল কর্মীদের হিমশিম খেতে দেখে নিজেই কাজে নেমেছি। আমরা এলাকা ছেড়ে যেতে প্রস্তুত আছি, এমন বহু মানুষই এরই মধ্যে স্থান ত্যাগ করেছেন। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

আরেকজন বলেন, হাজার হাজার দমকল কর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন। তবুও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। একদিকে আগুন নেভে তো অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে, এভাবে কী করে পরিস্থিতি সামলানো যায় বলুন!

আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হলিউড ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির প্রাণকেন্দ্র লস অ্যাঞ্জেলেসেও। সেখানকার সিমি ভ্যালি ও মোরপার্কের উত্তর অংশেই কেবল ১৩শ’ একরের বেশি স্থান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গেভিন নিউসম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সর্ব শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সার্বিক সহায়তা দিচ্ছেন। মানুষজনকে দাবানলের হাত থেকে উদ্ধার করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিদিনই নতুন নতুন অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ অসংখ্য অবকাঠামো আর বাড়িঘর। আরও এক লাখ স্থাপনা ধ্বংসের হুমকিতে রয়েছে। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। কবে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। : সময় টেলিভিশন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − nineteen =