সাকিবকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচার 2

সাকিবকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ২ বছরের জন্য সাকিব আল হাসানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাকিব দোষ স্বীকার করায় শর্ত সাপেক্ষে এক বছরের শাস্তি স্থগিত করেছে আইসিসি।

কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে একেবারে ভিন্ন কথা। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সাকিব জুয়াড়িদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে এই সাজা দিয়েছে আইসিসি, যা একেবারেই মিথ্যাচার!

কলকাতা২৪ সাকিবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংবাদ করেছে। তারা শিরোনাম দিয়েছে, ‌’ক্রিকেট জুয়োতে জড়িয়ে দু বছরের জন্য নিষিদ্ধ সাকিব’। এমনকি এই প্রতিবেদনের সূচনাতেও বলা হয়, ক্রিকেটের জুয়ায় জড়িত থাকায় তাকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

এ ছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনেও এড়িয়ে যাওয়া হয় সাকিবকে নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত ঘটনা। এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যাতে পাঠকের মনে হবে, সাকিব ক্রিকেট জুয়াতে জড়িত।

আসলে, আইসিসির দুর্নীতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আকসু) সাকিবকে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করে সাকিবকে। এরপর আবার একই বছরের ২৭ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় দীপক আগারওয়াল নামে এক জুয়াড়ির সঙ্গ কথা হওয়ার বিষয়ে জানান তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান, তার এক পরিচিত আগারওয়ালের কাছে নম্বর দেয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর আগারওয়ালের সাথে সাকিবের হোয়াটসআপে ম্যাসেজ চালাচালি হয় এবং আগারওয়াল সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে চায়। সেসব তথ্য আইসিসিকে দেননি সাকিব। যে কারণে নিয়মানুসারে সাকিব সাজা পেলেন।

এদিকে সাবিক আল হাসানকে আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সব ক্রীড়াপ্রেমী ও খেলোয়াড়দের জন্য একটি শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘সব ক্রীড়াপ্রেমী ও সব খেলোয়াড়দের জন্য সাকিবের শাস্তি একটি শিক্ষা। আপনি যদি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে খেলার চেয়েও বড় হতে চান, তাহলে পতনের জন্যও তৈরি থাকুন। সাকিবের ঘটনাটি দুঃখজনক!’

এ ছাড়া সাকিব আল হাসানের শাস্তি আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।

এক টুইটার বার্তায় মাইকেল ভন বলেন, ‘সাকিবের জন্য কোনো সহানুভূতি নয়। সে যেই হোক। বর্তমান সময়ে ক্রিকেটারদের সবসময় এ বিষয়টি বারবার বলা হয়ে থাকে যে, কোন বিষয়টি তারা করতে পারবেন আর কোনটি পারবেন না। কোন বিষয়ে সরাসরি রিপোর্ট করতে হবে, সেটাও বলে দেওয়া হয়।’

প্রসঙ্গত, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করলেও আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালকে না জানানোর কারণে সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি-বিরোধী কোডের তিনটি আইন লঙ্ঘন করায় সাকিবকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সাকিব দোষ স্বীকার করায় শর্ত সাপেক্ষে এক বছরের শাস্তি স্থগিত করেছে আইসিসি। সেই শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + 3 =