বৃদ্ধ মা-বাবার ঠাঁই হল গোয়ালঘরে! 2

বৃদ্ধ মা-বাবার ঠাঁই হল গোয়ালঘরে!

এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে সংসার ছিলো শুকুর দেওয়ান (৭০) ও সহুরা বেগম (৬৫) বৃদ্ধ এক দম্পতির। কিন্তু ছেলে-মেয়ে কারো ঘরে ঠাই হয়নি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। তাই এই বৃদ্ধ বয়সে থাকতে হচ্ছে তাদের পাশের বাড়ির গোয়াল ঘরে। সেখানে আশপাশের লোকজনের দেয়া সামান্য খাবারে জীবন বাঁচাচ্ছেন তারা।

ঝর-বন্যা, বৃষ্টির মধ্যেও তাদেরকে থাকতে হচ্ছে গোয়াল ঘরে। এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একমাস অতিবাহিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

এলাকাবাসী জানান, শুকুর দেওয়ান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। নিজের বাড়ি ছিল, জায়গা সম্পত্তি ছিল এমনকি গরু ছাগলের খামারও ছিল। এক সময়ে সুখে শান্তিতে কাটছিল তাদের জীবন। তাদের, মর্জিনা, রোকেয়া, খোদেজা ও সালমা নামের চার মেয়ে। মেয়েরা বড় হলে তাদের বিয়ে দেয়। সংসারে ছিল একমাত্র ছেলে হোসেন দেওয়ান (৩০), পুত্রবধূ ও বৃদ্ধ পিতা মাতা। এই চারজনের সংসারও দীর্ঘদিন সুখে কাটছিল। পরে শুকুর দেওয়ান বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে, চিকিৎসার কথা বলে গত বছর ছেলে হোসেন বাবাকে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপায়। সেখানে গিয়ে বাবার সম্পত্তি নিজের নামে দলিল করে নেন।

এর পরে সেই সম্পত্তি চাচা তাজু দেওয়ানের কাছে বিক্রি করে গত মাসে এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা হয়ে যায় হোসেন ও তার স্ত্রী। কিছু দিন পরে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হয়ে তাজু দেওয়ান বাড়ি থেকে বেড় করে দেন শুকুর দেওয়ান ও তার স্ত্রীকে। তখন হঠাৎ করে অসহায় হয়ে পরে বৃদ্ধ এই দম্পতি। ভাইকে জমি দেয়ায় মেয়েরাও বাবাকে ত্যাগ করেন। কোনো উপায় না পেয়ে পাশের বাড়ির একটি গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেন এই দম্পত্তি। এর পর থেকে সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। পাশের বড়ির লোকজন কিছু খাবার দিয়ে যায়, তা খেয়ে জীবন বাঁচছে। অসহায় এই দম্পতি দিন রাত কেঁদে কেঁদে পার করছেন।

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুল মান্নান জানান, আমি লোক পাঠিয়েছি দেখার জন্য। আমাকে জানালে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান জানান, যেখানে বর্তমান সময়ে দেশে দারিদ্র্য নেই বললেই চলে। সেখানে একজন মানুষ বাসস্থানহীন হয়ে গোয়াল ঘরে আশ্রয় নিবে এটা কখনো মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি আসলেই মর্মান্তিক। আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। : সময় টিভি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 12 =