ছাগি নয় দুধ দিচ্ছে এক পাঁঠা! 2

ছাগি নয় দুধ দিচ্ছে এক পাঁঠা!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোলান রশিদপুর গ্রামে ছাগি নয় দুধ দিচ্ছে এক পাঁঠা। এ ছাগল প্রজনন খামারে দুধদানকারী একটি পাঁঠাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এই পাঁঠার দুধের স্বাদও গরু বা ছাগীর দুধের মতই।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোলান রশিদপুর গ্রামের ছাগল প্রজনন খামারী বাবু লাল। তার খামারে আছে বিভিন্ন প্রজাতির ১৬টি পাঁঠা। বানিজ্যিকভাবে ছাগল-বকরী প্রজননের উদ্দেশ্যে বাবু লাল দীর্ঘদিন ধরে পাঁঠাগুলো পালন করে আসছেন তার খামারে। বছরখানেক আগে ওই খামারের একটি পাঁঠার তলপেটে ছাগীর মত দুধের বাঁট লক্ষ করেন খামারী, যেখানে ব্যাথার কারণে ছটফট করতো পাঁঠাটি।

ছাগি নয় দুধ দিচ্ছে এক পাঁঠা! 3
ছাগি নয় দুধ দিচ্ছে এক পাঁঠা!

পরে, স্থানীয় পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে পশু চিকিৎসক জানান, পাঁঠাটির ওই বাঁটগুলো দিয়ে যে দুধ নিঃসরণ হচ্ছে এর স্বাদ ও গুণগত মান গরু বা ছাগীর দুধের মতই। এরপর, চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত দুধ দোয়ানোর পর তা নিজেও খান, আবার পাড়া-পড়শিদেরও দেন বাবু লাল।

পাঁঠা খামারী বাবু লাল জানান, ‘এই ঘটনার শুরু হয় এক বছর আগে, হঠাৎ দেখি পাঠাটির দুধের ওলানের (বাঁট) মত বের হয়ে গেছে। পশু ডাক্তার জানান যে, বাঁটে দুধ বের হচ্ছে, এরপর থেকে প্রতিদিন আধা লিটার থেকে এক লিটার দুধ দেয় এই পাঁঠা।’

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের গ্রাম ছাড়াও আরও উৎসুক জনতা ভিড় করতে থাকেন বাবু লালের পাঁঠার খামারে। জেলাসহ দেশের কোথাও এমন বিরল ঘটনা ঘটেনি বলে জানান আগত দর্শনার্থীরা। এছাড়া, এই দুধের স্বাদ গরু বা ছাগীর দুধের মতই বলেও জানান পাঁঠার দুধ পানকারী এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁচবিবি উপজেলা প্রাানিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, ‘এটা এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পাঁঠা কি করে দুধ দিতে পারে, এটা খুবই সায়েন্টিফিক একটা ব্যাপার। এর জন্য দায়ী অক্সি-ডক্সিন নামক একটি হরমোন। এই হরমোনের সিক্রেশন যখন খুব বেশি হয়ে যায়, তখন পুরুষ ছাগলও দুধ দেওয়া শুরু করে। প্রতিদিন আধা লিটার থেকে ১ এক লিটার দুধ দেয় পাঁঠাটি, যা স্বাভাবিক দুধের মতই।’ বিষয়টি সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনে রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় সরকারি প্রানিসম্পদ বিভাগের এই প্রধান কর্মকর্তা।

এই ঘটনার কারণ উদঘাটনসহ বিরল এই প্রানিটিকে উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা দানের দাবি জানান এলাকাবাসী। : ডিবিসি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × one =