কেয়ারটেকার আতংকে দিন কাটছে প্রবাসী পরিবারের 2

কেয়ারটেকার আতংকে দিন কাটছে প্রবাসী পরিবারের

সিলেটের ওসমানীনগরে পূর্ব রুকনপুর গ্রামের ড. মিজান এলাহী যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও তার বাড়ীতে থাকা লোকজনের কাছে অজানা আতংকের নাম লেফাজ মিয়া ওরফে আব্বাছ আলী।

মিজান এলাহীর বাড়িতে থাকার জন্য মূল বিল্ডিং এর পাশে একটি ঘর দেওয়া হয়েছিল তাকে। সে ঘরে থেকেই প্রবাসীর টাকায় দিনাপাত কাটাতেন তিনি। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তিনি প্রবাসীর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আর দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় প্রবাসীর বাড়ীর এলাকায় নিজ খরচে দখলের লক্ষ্যে গড়ে তুলেন পাকা ঘর।

সরেজমিনে এমন চিত্রই দেখা যায় প্রবাসী এলাহীর বাড়ীতে গিয়ে।

কেয়ারটেকার আতংকে দিন কাটছে প্রবাসী পরিবারের 3
যুক্তরাজ্য প্রবাসীর পরিবারের সাথে কথা বলছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

রোকন এলাহী বাইরে থাকার সুযোগে একটি ভূমি খেকো চক্র প্রবাসীর বাড়ী দখলের লক্ষ্যে এক সময়ের প্রবাসীর কেয়ারটেকার ও তার আত্মীয় আব্বাস আলীকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। চাঁদাবাজীর ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় মামলাও হয়েছে। যদিও প্রভাবশালী একটি মহল ও থানা পুলিশের দালালদের গোপনাতাতে পরবর্তীতে হয় পাল্টা মামলা।

জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগরে এক প্রবাসীর ভূমি দখলের পাঁয়তারা করছে একটি চক্র। এ লক্ষ্যে সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি ওই প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে সংস্কার কাজে বাধা দিয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং একটি মামলা হয়। তবে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গোষ্ঠি পুলিশকে ম্যানেজ করে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের পক্ষেরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে প্রবাসী বাড়ির লোকজন সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানা যায়, ওসমানীনগরের পূর্ব রুকনপুর গ্রামের ড. মিজান এলাহী যুক্তরাজ্য প্রবাসী। স্বপরিবারে সেখানে থাকায় বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন তাজ উদ্দিন মাস্টার। গত ১১ অক্টোবর বিকেলে বাড়ির সংস্কার কাজ চলাবস্তায় একই গ্রামের লেফাজ মিয়া ওরফে আব্বাছ আলী ও কাশিপাড়া গ্রামের আব্দুল খালিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। এসময় বাড়ির কেয়ারটেকার তাজ উদ্দিন মাস্টার এর কারণ জানতে চাইলে সন্ত্রাসীরা তার কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু এতে কেয়ারটেকার রাজি না হলে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে স্বর্ণ, নগট টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লেফাজ মিয়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলাও (নং-১১, তাং-১১/১০/২০১৯ইং) হয়।

এদিকে, সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তারের পর নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে গ্রেপ্তারকৃত লেফাজের স্ত্রী পারভিন বেগম বাদী হয়ে একই থানায় প্রবাসী মিজান, তার কেয়ারটেকারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ১৩ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করে কেয়ারটেকারসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

এসব ঘটনার সময় থানার ওসি ছিলেন এস এম আল মামুন; যাকে ক’দিন আগে থানার ভেতর বর্ষপূর্তি পালনের অপরাধে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে ওসমানীনগরে ওসি চলতি দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাইন উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের মামলা তদন্ত চলছে।

দুপক্ষের আসামীকেই গেস্খফতার করা হয়ে ছিল। তবে ড. মিজান এলাহীর লোকদের দেয়া মামলায় কেন কোন আসামীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ না করে লেফাজদের দেয়া মামলায় মিজান এলাহীর লোকদের রিমান্ডে আনা হলো। এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন তখন থানার দায়িত্বে ছিলেন যিনি তিনি নেই। তবে রিমান্ডে দেয়ার দায়িত্ব আদালতের। পুলিশ রিমান্ড আবেদন দিয়েছিল আদালত মঞ্জুর করেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 5 =