তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয় 2

তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয়

পাকা আধাপাকা ধানে ভরপুর এখন হবিগঞ্জের কৃষকদের মাঠ।

বৈশাখের শুরুতেই অনেক কৃষকের ধানক্ষেত পেকে গেলেও করোনার প্রভাব পড়েছে হাওরে।

তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয় 3
অন্য জেলা থেকে শ্রমিক না আসায় সংকটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। আর তাতে করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

যদিও প্রশাসন বলছে, কৃষকদের চিন্তার কোনো কারণে নেই। প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

হবিগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এ বছর বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয় 4

তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে কৃষকদের মধ্যে।

এদিকে, এরইমধ্যে চলতি সপ্তাহেই হবিগঞ্জসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া আধিদফতর।

এতে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বোরো জমি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে হাওর অঞ্চলের বোরো ধান দ্রুত কাটার তাগিদ দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাবাস অনুযায়ী আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৪ দিন হবিগঞ্জে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময় ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে।

এতে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে এবং আগাম বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

করোনার প্রভাবে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসতে চাচ্ছে না। দেশের শ্রমিকরাও দ্বিগুণ মজুরি চাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে যদি প্রশাসন উদ্যোগ নিত তা হলে ভাল হতো।

কৃষকরা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাইরের শ্রমিক নেই বললেই চলে। করোনার প্রভাবে গোটা দেশই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। আমি এবার প্রায় ৩০ ক্ষের বোরো জমি আবাদ করেছি।

এর মধ্যে প্রায় ১০ ক্ষের জমির ধান পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটাতে পারছি না। তাই এখন বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে দেশি শ্রমিকদের মাধ্যমেই ধান কাটাতে হচ্ছে। আর তাতে করে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।তবুও ধান কাটা নিয়ে সংশয় 5

হবিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট রয়েছে। এরইমধ্যে বাইরে থেকে শ্রমিক আসা শুরু করেছে। তবে তবে আগাম বন্যা কৃষকের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

হবিগঞ্জের ডিসি মো. কামরুল হাসান বলেন, হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই শ্রমিক সংকট নিরসনে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক নিয়ে আসার বিষয়ে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর জন্য বাইরের জেলার সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে।

শ্রমিকদের সুরক্ষা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 16 =