আরিচা ঘাটে আটকে পড়া শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থা করলেন শিবালয়ের ইউএনও 2

আরিচা ঘাটে আটকে পড়া শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থা করলেন শিবালয়ের ইউএনও

অভাবের তাড়নায় কাজের খোঁজে আরিচায় এসে বিপাকে পড়েছেন কিছু দিনমজুর। অবশেষে ইউএনওর প্রচেষ্টায় খাবার পেলো এসব মানুষ। করোনাভাইরাস কি জানেন না তারা। তাই এ দুরযোগের মধ্যে ঘর থেকে বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে।

অনেকে এসেছেন গণপরিবহণ বন্ধ্যের আগে। আবার এর মধ্যেও এসেছেন অনেকে। কিন্ত আসলে কি হবে। করোনা আতংকে কাজে নিচ্ছে না কেউ।

এমতাবস্থায় না পারছে বাড়ি যেতে, না পারছেন কাজে যেতে। মহাবিপাকে পড়েছেন দিনমজুরেরা। খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় চিড়া-মুড়ি বিস্কুট এসব শুকনা খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতে হচ্ছিল তাদেরকে।

এ পরিস্থিতিতে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,এফ,এম ফিরোজ মাহমুদ সংবাদ পেয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাকে সহযোগীতা করেন এ্যাসিল্যান্ড জাকির হোসেন ও শিবালয় ৩নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বাসায় ফেরার পথে আরিচা ঘাটের তেলের পাম্প সংলগ্ন মরহুম বাদল চেয়ারম্যানের অফিসের বারান্দায়  বসে থাকতে দেখা যায় ১৫/২০জন দিন মুজুর।তাদের সাথে ব্যাগ পুটলা রয়েছে ।এগিয়ে গেলাম তাদের কাছে ।

কেউ বিস্কিট খাচ্ছে,  কেউ হাত- পা গুটিয়ে চোখে-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে বসে আছেন। এদের কারো বয়স ষাট, কারো পঞ্চাশ এরকম। কথা বলি তাদের সাথে।

এরা কাজের খোঁজে উত্তরবঙ্গ থেকে এসেছিলেন। এ  কঠিন সময়ের মধ্যে এরা কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

দিনমজুরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরের এ সময়টাতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তেমন কোন কাজ থাকোনা। যে কারণে তারা বিভিন্ন জেলা থেকে আরিচাতে আসেন দিন মুজুরের কাজ করতে।

রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে দেশের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হচ্ছে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট।আরিচা ঘাট থেকেই ৪শ থেকে ৫শ টাকা দিনচুক্তিতে তারা যান কাজে।

কিন্ত করোনাভাইরাসের কারণে এখন কেউ কাজে নিচ্ছে না তাদেরকে । এসব দিনমজুর এখন বেকার।

এখন কাজতো দুরের কথা হোটেল বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে ভুগছেন তারা।

এর মধ্যে একজন আছেন ষাট বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নাম হাসান আলী বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ইতনায়।

নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করতেই হাউ-মাউ করে কেঁদে দিলেন তিনি।

পাঁচ দিন ধরে আছেন আরিচা ঘাটের এখানে।

কাজ করতে গিয়েছেলেন হরিরামপুরের মাচাইন এলাকায়। তিন দিন কাজ করার পর গেরস্ত তাকে না করে দিয়েছেন।

কুষ্ঠিয়া জেলার আতিয়ার রহমান জানান, শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকায় গিয়ে ২দিন কাজ করার পর গেরস্ত তাকে না করে দিয়েছেন।

গণ পরিবহণ বন্ধ থাকায় পাঁদিন ধরে বসে আছেন আরিচা ঘাটে। স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে তিন জনের সংসার চলে তার একার আয়ে। কয়েক দিন আগে আরিচা এসেছিলেন কাজের সন্ধানে। কাজও পেয়েছিলেন।

দিন চুক্তি ৪শ টাকা।তিন দিন করার পর তাকে না করে দেন। পাঁচ দিন ধরে বসে আছেন এখানে।

এখন পকেটে যা আছে তা দিয়ে বড় জোর একদিন চলবে। কিন্ত খাবর পাবেন কোথায় সকল খাবার হোটেল বন্ধ। ঘুরেফিরে দোকান খোলা পেলে পারুটি কলা, বিস্কুট, যা পাচ্ছেন তা দিয়ে কোনরকম ক্ষুধা নিবারণ করছেন।

রংপুরের আফছার আলী(৬০)।দিন মুজুরের কাজ করে সংসার চালান।

অভাবের তাড়নায় এই দুরযোগের মধ্যে অনেক কস্ট করে সুদুর রংপুর থেকে কাজের সন্ধানে আসেন আরিচায়।

দু’দিন ধরে বসে আসেন। কিন্ত কেউ কাজে নিচ্ছেনা তাকে।

পকেটে যা ছিল তা প্রায় শেষ।ভাবছিল কাজ করলে হয়তো টাকা হবে।

কিন্ত সে আসায় গুড়ে বালি।এখন মহা চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
এখানে যারা রয়েছেন তাদের সকলের একই অবস্থায়।

এদের কেউ কেউ দু’ একদিন করে কাজ করার পর গেরস্তরা তাদেরকে না করে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আছেন কোন কাজই পাননি।

সারাদেশ যেখানে করোনাভাইরাস আতংক বিরাজ করছে, সেখানে তাদেরকে কাজে নিবে কে! যানবাহন চলাচল বন্ধ।

না পারছে বাড়ি যেতে, না পারছে কাজে যেতে। কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে এরা ঠাই নিয়েছে অারিচা ঘাটের তেলের পাম্পে।

দুই থেকে ৫ দিন ধরে অলস বসে আছেন এসব মানুষ।অারিচা ঘাটের  খাবারের সকল হোটেল বন্ধ।

তাদের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম শুকনা চিড়া- মুড়ি আর পানি খেয়ে কাটছিল তাদের দিন।

অবশেষে ইউএনও খবর পেয়ে তাদের খোঁজ খরব নেন এবং এসব ‍দিনমজুরদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।

-শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 8 =