লালমনিরহাটে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে  পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জরুরী ত্রাণ 2

লালমনিরহাটে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে  পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জরুরী ত্রাণ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: 
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জরুরী ত্রাণসামগ্রী।
বৃহস্পতিবার থেকেই এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এসব অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রান হিসেবে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরন করা হয়।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৫ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উপজেলাগুলোয় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গোটা জেলায় সেনাদের টহল দিতে দেখা গেছে।
রবিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে জেলার সাপ্তাহিক হাট গুলোতে প্রচুর জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে।
ওষধ, কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চলের হাটগুলো ছাড়াও তামাকের হাটগুলোতে লোকজনের মাঝে এখানো পুরোপুরি করোনা নিয়ে সচেতনতা না  আসায় রবিবারও জেলার বিভিন্ন তামাকের হাটগুলোতে লোকজনের ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে করোনা মোকাবেলায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আগাম বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায়।
তিনি জানান, বর্তমানে তার দপ্তরে ৩৪৫টি এবং জেলা সদর হাসপাতালে ৩৭০টি পিপিই মজুদ রয়েছে। যা জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া আরও চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা কাজ করছেন বলে তিনি আরও জানান।
লালমনিরহাট পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশ লাইনে ১৭ সদস্যের এবং প্রতিটি থানায় ৫ সদস্য করে মোট ৬টি ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা তৈরির পর প্রতিটি থানায় প্রেরণ করে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারাইন্টাইন নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানিয়েছেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ১৮৭ জন হোম কোয়ারাইন্টাইনে আছে।
যাদের মধ্যে ৩৫ জন ১৪ দিনের কোয়ারাইন্টাইন শেষে মুক্ত হয়েছেন এবং আজ রবিবার পর্যন্ত কেউ আইসোলেশনে নেই। ৩৩ জন ডাক্তার ও ৩৩ নার্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া দোকানপাট (জরুরি প্রয়োজনীয় ছাড়া) ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৫ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উপজেলাগুলোয় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে লোকজনের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্যরা টহলরত আছে।
পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে আছেন নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলোও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঘন ঘন সাবান বা জীবানু নাশক ব্যবহার করে হাত মুখ পরিস্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই সাথে জন সাধারনকে মাস্ক ও সাবান বিতরন করছেন অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =