যে কারণে সিটি নির্বাচেন নৌকার টিকিট পাননি নাছির 2

যে কারণে সিটি নির্বাচেন নৌকার টিকিট পাননি নাছির

দাপুটে রাজনীতিবিদ ও বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন আগামী সিটি নির্বাচেন নৌকার টিকিট পাননি।

তার বদলে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল করিম চৌধুরী মহনগরের রাজনীতিতে খুব বেশি আলোচিত না হলেও ত্যাগী রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিতি আছে তার।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ত্যাগের কারণেই মনোনয়ন পেয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামে নতুন প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এটা চেঞ্জ। কোনো বলয় ( মহিউদ্দিন চৌধুরী বা আ জ ম নাছির) ভাঙ্গা নয়। যাকে দেয়া হয়েছে। তার রাজনৈতিক ত্যাগের ফল।

বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নতুন কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন। মনোনয়নপত্রও নিয়েছিলেন ১৭ জন! কিন্তু বাঘা বাঘা সব প্রার্থীকে পেছনে ফেলে দলের মনোনয়ন পেলেন নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ হলেও খুব সাম্প্রতিককালে খুব একটা আলোচনায় ছিলেন না তিনি। দাপুটে রাজনীতিবিদও বলা যায় না তাকে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলো।

উচ্ছ্বসিত রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, আমার রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করেছেন, এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

এক সময় চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দন চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠন করেছেন বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯-১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৭০-১৯৭১ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রাবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১নং সেক্টরের বি এল এফ এর মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

দেশ স্বাধীনের পর, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর চরম দুঃসময়ে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন তিনি।

পড়াশোনার জন্যে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু ৭৫’র পট পরিবর্তনের কারণে সক্রিয় প্রতিরোধ লড়াইয়ে নেমে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি। পরে ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্য্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৭-২০০৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৬-২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে রেজাউল করিম চৌধুরীর। বর্তমানে তিনি নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব ও কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ত্যাগী কর্মী হিসেবেই রেজাউল করিম চৌধুরীকে দলের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছিরকে নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। চট্টগ্রামে মহিউদ্দীন চৌধুরীর রাজনৈতিক অনুসারীদের সাথে আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের দূরত্বও বিবেচনায় এসে থাকতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তাদের সবাই কোনো না কোনো গ্রুপিংয়ে যুক্ত। এই জায়গায় ব্যতিক্রম রেজাউল করিম চৌধুরী, তিনি সরাসরি গ্রুপিংয়ের সাথে যুক্ত নন। যদিও তিনি সাবেক মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দীন চৌধুরীর আস্থাভাজন ছিলেন।

তাছাড়া পারিবারিকভাবেও রেজাউল করিম চৌধুরীর পরিচিতি আছে। এটিও তার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। প্রাচীন জমিদার বংশ বহরদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যেখান থেকে বহদ্দারহাট এলাকার নামকরণ। তার পিতা মরহুম হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী ছিলেন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও দাদা ছালেহ আহমদ ছিলেন ইংরেজ শাসিত ভারত এবং পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত বিলুপ্ত কমরেড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

তার বড় ভাই অধ্যাপক সুলতানুল আলম চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পারিবারিক জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক রেজাউল করিম। তার বড় মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − six =