মাছ চাষে আশার আলো 2

মাছ চাষে আশার আলো

পুঁটি, কৈ, পাবদাসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তি প্রায়। তবে এখনও যে অল্প সংখ্যক মাছ বাজারে আসে তাও দামে বেশ চড়া। ফলে সুস্বাদু এ মাছগুলো চলে যায় ধনী মানুষের রান্নাঘরে। তবে পুকুরে পাবদা মাছের সফল চাষ শুরু হওয়ায় আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস অফিসের সহযোগিতায় মৎস খামারি মমরেজ আলী বিশ্বাস (৪৯) পুকুরে পাবদা মাছের চাষ করেছেন। আশানুরুপ উৎপাদনে অন্য যেকোন মাছ চাষের থেকে বেশি মুনাফা পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি । আগামীতে আরো অধিক জলাধারে পাবদা মাছের চাষ করার চিন্তা করছেন তিনি।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলহাজ্ব শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে মমরেজ আলী বিশ্বাস উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপি গ্রামে ৬ একর পুকুরে দেশি পাবদা মাছের চাষ করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ জলাধারে পাবদা মাছ চাষ করে ৩০ হাজার টাকা মুনাফা পেয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিসের দেয়া একটি প্রজেক্ট। মৎস অফিসের দেয়া ১০ হাজার পাবদা পোনা ছেড়ে ৭ মাস পরে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে সকল খরচ বাদে ওই পরিমান মুনাফা তিনি পেয়েছিলেন।

অন্যান্য মাছ চাষের তুলনায় পাবদা মাছের চাষ লাভজনক হওয়ায় দ্বিতীয় বার তিনি ২০১৯ সালের মে মাসে ৬ একর পুকুরে সাড়ে ৩ লক্ষ পাবদা মাছের পোনা ছাড়েন। তখন মাছের দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় ২ ইঞ্চি। সে সময় প্রতি পিচ মাছ কিনতে হয়েছিল ১টাকা করে। পাবদা মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ১০ পিচ হারে কার্ভ জাতীয় মাছ ছেড়েছিলেন। ৭ মাস পরে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১২টন পাবদা মাছ বিক্রি করেছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া কার্ভ মাছ বিক্রি থেকে কমপক্ষে আরও ৮ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে তিনি জানান। পুকুর লিজ, খাবার, ঔষধ, বিদ্যুত বিল, নিয়মিত ও অনিয়মিত শ্রমিকের বেতন সহ অন্যান্য খরচ মিলে ৩৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে তার নিট মুনাফা কমপক্ষে ১৫ লক্ষ টাকা।

মাছ বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় বাজারে এই মাছ বিক্রি করলে কেজি প্রতি ৩’শ থেকে ৩’শ ৫০ টাকা পাওয়া যায়। তবে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারলে কেজি প্রতি ৩’শ ৭০ থেকে ৩’শ ৮০ টাকা দর পাওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 3 =