রেল স্টেশনে শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ফেলে গেলো স্বজনরা

রেল স্টেশনে শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ফেলে গেলো স্বজনরা

শীতের মধ্যে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে রেল স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে স্বজনরা। শীতে প্লাটফর্মে ১৪ দিন থাকার পর রবিবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলেও তার শারিরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃদ্ধ এই মায়ের সাথে এমনই নির্মম আর হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে।

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিছনায় শতবর্ষী এই বৃদ্ধা অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তবে মাঝে মধ্যে চেতনা ফিরে পেলেও আবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। এই বৃদ্ধা কখনও হয়তো ভাবেননি তার পরিবারের কাছে এক সময় এমন বোঝা হয়ে উঠবেন যে, নিস্কৃতি পেতে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে গোপনে রেখে যাওয়া হবে স্টেশনের প্লাটফর্মে।

রহনপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই দিন আমি স্টেশনে আমার দোকানে বসে ছিলাম। দেখলাম কয়েজন রিক্সা ভ্যানে নিয়ে এসে বৃদ্ধ মহিলাকে স্টেশনের প্লাটফর্মের একটি জায়গায় রেখে দিল। কৌতুহলি হয়ে আমি তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা কোন উত্তর না দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে শুরু হয় বৃষ্টি। দীর্ঘক্ষণ পরও তার ফিরে না আসায় আমি স্টেশনের তেঁতুল গাছের নীচে পরিত্যাক্ত জায়গাটিতে খড় বিছিয়ে দিই।

এরপর পুরাতন কম্বল দিয়ে বিছানা তৈরি করে তাকে সেখানে রাখি। আমি গরিব মানুষ তারপরও এই কয়দিন আমার যথাসাধ্য সেবাযত্ন করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই গত দুই সপ্তাহ সে এখানেই ছিল। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গোমস্তাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ডা. সালাউদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, রোবরার রাতে যখন তাকে এখানে আনা হয় তখন প্রচণ্ড শীত এবং বার্ধক্যজনিত কারণে তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বিপি পালস খুব কম ছিল। চিকিৎসার পর সকালে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নত হলেও এখনও তিনি শঙ্কা মুক্ত নন। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে যতক্ষণ তিনি এখানে আছেন আমরা আমাদের যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দিব।

অমানবিক এমন ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, চিকিৎসকসহ স্থানীয় জনপ্রশাসনও এগিয়ে এসছেন শতবর্ষী এই বৃদ্ধার পাশে। রহনপুর পৌর মেয়র তারেক আহমেদ জানান, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। রাতে আমি বিষয়টি শোনার পরই হাসপাতালে ছুটে এসেছি। যতদিন এই অসহায় বৃদ্ধ মায়ের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সন্তানের মতই তার পাশে থাকব।

রহনপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মালতি বেগম নামের এক নারীকে ওই বৃদ্ধাকে দেখভালের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃদ্ধার সেবারত মালতি বেগম জানান, যখনই ওই বৃদ্ধা চেতন ফিরে পাচ্ছেন তখনই ঘৃণা প্রকাশ করছেন তার স্বজনদের প্রতি। হাতের ইশারায় দূরে সরে যেতে বলছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + one =