লাল শাপলা বিল রং-তুলির মাধ্যমে অংকন করলেন জার্মান চিত্রশিল্পী 2

লাল শাপলা বিল রং-তুলির মাধ্যমে অংকন করলেন জার্মান চিত্রশিল্পী

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লাল শাপলার রাজ্যের ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

২০১৫ সনে বাংলাদেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা এবং বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশনে ধারাবাহিক কয়েকটি প্রমাণ্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার পর হতে ডিবির হাওর এলাকার ৪টি বিল বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে পর্যটন স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সোসাইটির এক্সিভিশনের মাধ্যমে সিলেটের  জৈন্তাপুরে লাল শাপলার বিলটির চিত্র তুলে ধরা হয়।

ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক চিত্রশিল্পী মোঃ খায়রুল ইসলামের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশ বিভিন্ন এক্সিভিশনে শাপলা বিলের ছবি প্রর্দশন করা হয়।

অপরদিকে প্রথম আলো কয়েক বারের প্রথম স্থান অর্জনকারী সিলেটের চিত্রশিল্পী আনিস মাহমুদ অসাধারণ লাল শাপলার ছবি পত্রিকাটির মলাট হিসাবে প্রকাশিত হয়। যার ফলে জৈন্তিয়ার লাল শাপলার রাজ্যেকে পর্যটন স্থান হিসাবে বাংলাদেশের মানচিত্রে দখল করে নেয়।

সম্প্রতি সময়ে বিশ্বের বিভিনś দেশের পর্যটকরা লাল শাপলার রাজ্যে এসে লাল শাপলার সাথে নিজের মন বিলিয়ে দেন। বাংলাদেশে ভ্রমন করতে আসা পর্যটকরা একনজর দেখার জন্য লাল শাপলার বিল গুলো পরিদর্শন করেন।

গত ১০জানুয়ারী শুক্রবার সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত লাল শাপলার বিল গুলোকে জলরং এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট রং-তুলির আঁচড়ে লাল শাপলার রাজ্যের চিত্রকর্ম তৈরী করেন জার্মান চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিকালচার বিভাগের লেকচারার জুনায়েদ মোস্তফা, রাশেদ কামাল রাশেদ নিজ নিজ রং-তুলির আচঁড়ে জৈন্তাপুরের লাল শাপলার রাজ্যের চিত্রকর্ম ধারন করেন।

জুনায়েদ মোস্তফা জানান, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লাল শাপলার বিলের সংক্ষিপ্ত যে ইতিহাস তুলো ধরা হয়েছে তা সম্পুরকভাবে ভূল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যার ফলে ঐহিত্যবাহী এবং পূরানাকীর্তি স্থানটি সহ স্থানীয় ইতিহাসকে বিভিন্ন দেশ হতে আগত পর্যটকরা ভূল জানছে।

অবিলম্বে লাল শাপলার রাজ্যের ভূল ইতিহাস অপসারন করে প্রকৃত ইতিহাস লিপবদ্ধের দাবী জানান।

রাশেদ কামাল রাশেদ বলেন, আপনাদের মাধ্যমে সরকারের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই এই বিল গুলোর বিভিনś অংশে অবৈধভাবে দোকান, লাল শাপলা ধংস করে বিলের জমি দখল করে ফসলী জমি তৈরী করা হচ্ছে অবৈধ দখল দারদের হাত থেকে বিল গুলোকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এখনই প্রদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন, অন্যথায় লাল শাপলার বিল অচিরেই তার সৌন্দর্য্য বিলিন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন অচিরেই আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরর নিয়ে লাল শাপলার বিলে চিত্রকর্মের উপর প্রশিক্ষনে নিয়ে আসব।

জার্মানের চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যমত আর্কর্ষনীয় স্থান এটি। লাল শাপলায় অতিথি পাখি, সূর্য উদয়-সূর্যস্ত বিষয়টি অকল্পনীয় লেগেছে।

অন্যান্য দেশের তুলানায় বাংলাদেশের সিলেটের লাল শাপলার পর্যটন স্থানটি অন্যতম। স্থানটি দেখে বিভিনś ভাবে ১০টি চিত্রকর্ম তৈরী করেছি, যাহা বিশ্বের বিভিনś আর্ন্তজাতিক এক্সিভিশনের তুলো ধরবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন বিলে যাতায়াতের রাস্তাটির সংস্কার ও বিল এরিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরালে এটি আরও আর্কর্ষনীয় হত।

জৈন্তাপুর পুরানর্কীতি ও পর্যটন উন্নয়ন সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ খায়রুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, আমরা ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করি বিলের লীজ বাতিল, পুরানাকির্তী সংরক্ষণ এবং লাল শাপলা বিলের প্রকৃত এরিয়া নির্ধারণ করে বিলটি সংরক্ষণ। কিন্তু বিলের লীজ বাতিল করা হলেও অজ্ঞাত কারনে বিলের এরিয়া নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রভাবশালী ভূমি খেকু চক্রের সদস্যরা বিলের প্রায় ২শত বিঘা জমি দখল করে বাড়ী নির্মাণ ও লাল শাপলা নষ্ট করে ফসলী জমিতে রুপান্তর করছে।

বিলটি প্রকৃত এরিয়া নির্ধারণ ও সংরক্ষনের জন্য আমি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

-নাজমুল ইসলাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =