৭২ কেজির আইড়, ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি 2

৭২ কেজির আইড়, ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় অন্যান্য বছরের মতো মাঘ মাসের শেষ বুধবার বসেছে সন্ন্যাসী মেলা।

একদিনের জন্য মেলা বসলেও সব ধরনের পণ্যই আসতে থাকে মঙ্গলবার থেকে।

বুধবার মূল মেলা শেষে বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয় জামাই-বউ মেলার।

এবারও মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিশালাকৃতির মাছ। এর সঙ্গে নজর কাড়ছে মাছের আকৃতির বড় মিষ্টি।

একদিনের জন্য মেলা বসলেও সব ধরনের পণ্যই আসতে থাকে মঙ্গলবার থেকে।

বুধবার মূল মেলা শেষে বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয় জামাই-বউ মেলার।

কবে, কীভাবে এ মেলার সূচনা তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জনশ্রুতি আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে স্থানীয়রা এ মেলা শুরু করেন এক সন্ন্যাসীর সম্মতি নিয়ে। তবে কথিত এ সন্ন্যাসী মেলাকে এখন অনেকেই চেনেন মাছের মেলা হিসেবে।

কেউ আবার একে জানেন পোড়াদহ মেলা হিসেবে।

ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় পান, চুন থেকে শুরু করে নানা আকারের সুচও পাওয়া যায়।

আর সেই সঙ্গে এবার মেলাতে দেখা মিলছে নাগরদোলা, মুত্যৃকুপ খেলা, জাদুসহ গ্রামীণ বিনোদনের নানা অনুষঙ্গের।

উপজেলা প্রশাসন ও আয়োজকরা বলছেন, মেলায় এবারও বেচা-কেনা হবে অন্তত ২০ কোটি টাকার পণ্যের।

গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান জানান, মেলার সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সব বিষয়ে।

তিনি বলেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি চেষ্টা করছি এ মেলায় যাতে কেউ অনৈতিক কিছুর আয়োজন করতে না পারে।”

প্রতি বছরই এ মেলায় অধিকাংশ মাছ পাঠান আড়তদার আনোয়ারুল হক। এবার তিনি মাছ এনেছেন ৭০ ট্রাক।

তিনি বলেন, “আমার হিসাবে এবার সন্ন্যাসী মেলায় শুধু মাছই বিক্রি হবে ১২ কোটি টাকার।”

যমুনা নদী থেকে ধরা ৭২ কেজি ওজনের একটি বাঘা আইড় মেলায় এনেছেন জেলে বিপ্লব। প্রতি কেজি তিনি দাম চাচ্ছেন এক হাজার ৮০০ টাকা।

“গত বছর এ মেলাতেই এনেছিলাম ১০০ কেজি ওজনের একটা; প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ২ হাজার টাকা দরে,” বলেন বিপ্লব।

দেশীয় প্রায় সব ধরনের বড় মাছেই উঠেছে এবারের মেলাতে।

গাবতলী উপজেলার মহিষবাথান এলাকা থেকে ১০ কেজি ওজনের মাছের আকৃতির একটি মিষ্টি এনেছেন আবদুল লতিফ।

এর দাম তিনি হাঁকছেন তিন হাজার টাকা। গত বছর তিনি এ ধরনের একটি মিষ্টি বিক্রি করেছেন তিন হাজার ২০০ টাকায়।

“আমি এবার এ মেলায় বিক্রির জন্য বানিয়েছি ২০০ কেজি মিষ্টি। মেলার যে ভাব দেখছি, তাতে মিষ্টি ফেরত যাবে না একটুও,” বলেন আব্দুল লতিফ।

তার হিসাবে এবার মেলায় মিষ্টি উঠেছে অন্তত আট হাজার কেজি।

নতুন চুড়ি, ফিতা, নাক-কানের দুলসহ অন্যান্য অলংকারেও ভরে আছে অনেক দোকান। লক্ষ্য বৃহস্পতিবার জামাই ও বউ মেলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × two =