হবিগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান না পুলিশ সদস্যের পিতা 2

হবিগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান না পুলিশ সদস্যের পিতা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : পুলিশ সদস্যের বৃদ্ধ পিতা আকল মিয়া (৭০) বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চান।

হবিগঞ্জ শহরতলীর পৈল ( ঘরের পাড়) গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশ্বব আলীর ছেলে আকল মিয়াকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান না জীবন নাশের ভয়ে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল বেডে শোয়ে শোয়ে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান , তার ছেলে রজব আলী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে কর্মরত।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানায় আছেন রজব আলী। আর তার মেয়ে আছিয়া খাতুন (৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন।

একের পর এক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভাঙ্গা পায়ের চিকিৎসা নিতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় গত ১৪ মার্চ ভর্তি হন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ।

২১ মার্চ হাসপাতালের ডাক্তার তাকে এক্সরে ও অপারেশন করানোর পরামর্শ দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট হাসপাতালে রেফার্ড করেন ।

তবে বৃদ্ধ পিতার পুলিশ সদস্য ছেলে রজব আলী ও মেয়ে কেউ তার দায়িত্ব না নেয়ায় তিনি হবিগঞ্জ হাসপাতালেই পড়ে আছেন।

বৃদ্ধ আকল মিয়ার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত আনসার পিসি শৌচাগার ব্যবহার করার সময় ডান পা ভেঙ্গে যায়। ছেলে কবিরাজ চিকিৎসা করায় ভাল হয়নি। কবিরাজ বলে ডাক্তার দেখাতে।

অপারেশন লাগবে পরে কুমিল্লা জেলায় নিয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসকে দেখান ছেলে রজব আলী। সে ঐ সময় কুমিল্লার এক থানায় কর্মরত ছিল।

কয়দিন পরে আকল মিয়াকে বাড়িতে রেখে ফেলে যায়। এরপর থেকে বাবাকে কোন চিকিৎসা দেখাশোনা এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রজব আলী।

অবশেষে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ২০০ টাকা সম্বল নিয়ে ১৪ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। আর ২১ মার্চ তাকে সিলেট রেফার্ড করলেও তিনি এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের বেড নং ( বি ২১ ) এ ভর্তি রয়েছেন।

কারন মহামারী করোনার আতংকে পুরো হাসপাতাল খালি থাকার কারনে তিনি থাকার জায়গা পেয়েছেন।

তিনি বলেন জীবন এখন সংকটাপন্ন। ছেলে ও তার পরিবার বলেছে বাড়ি ফিরলে তাকে জবাই করে মেরে ফেলা হবে। তাই তিনি তার চিকিৎসা জীবনের শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা চান।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সাহায্য প্রার্থনা করছেন তিনি।

অন্যতায় তাকে পায়ের অপারেশন করিয়ে একটা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থ করে দিতে আকুতি তার। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ডিউটিরত নার্স পল্লবী রানী জানান, বৃদ্ধ লোকটিকে কোন ঔষধ দেয়া হয়না। কারন ডাক্তার তাকে রিলিজ দিয়েছেন।

তাই তিনি কোন সরকারী ঔষধ পান না। তবে হাসপাতালের খাবার দেয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + 12 =