সাদা মনের মানুষ লাল মিয়ার উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পেল শতাধিক পরিবার 2

সাদা মনের মানুষ লাল মিয়ার উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পেল শতাধিক পরিবার

করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে আবারো মানবতার সেবায় এগিয়ে এলো সেই যুবক লাল মিয়া।

৮ম শ্রেণি পাশের ৩৩ বছরের এই যুবক মঙ্গলবার রাতে আরো ১০০ টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। এই মুহুর্তে দেশের বড় বড় বিত্তবানরা যা করতে পারেনি বাস্তবে তাই করে দেখিয়ে দিয়েছে সে।

মানবতার এই নেতা সুনামগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম তেঘরিয়া আবাসিক এলাকার স্বর্ণালী ৯ নং বাসভবনের বাসিন্দা মৃত গিয়াস উদ্দিন এর ছেলে।

ব্যবসায়ী কোম্পানী ওয়ালটন এর সুনামগঞ্জ সোরুমে সামান্য বেতনের একজন পিওন।

মঙ্গলবার রাতে দরিদ্র মানষের ঘরে ঘরে খাদ্যদ্রব্যাদি পৌছে দেয়ার মূল উদ্যোক্তা সে নিজে হলেও সবকিছু কিন্তু একক কৃতিত্বের দাবীদার হিসেবে সে নিজেকে মনে করেনা।

লাল মিয়ার কাছ থেকে খাদ্য সহায়তাপ্রাপ্ত কয়েকজন উপকারভোগী বলেন,আমরা লাল মিয়ার কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা পেয়ে নিজেদেরকে তৃপ্ত মনে করছি।

কারণ তার এই সৎদানে একজন সৎ মানুষের পরশ ও একাধিক সৎ মানুষের সহযোগীতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তার পরিশ্রম সততা আন্তরিকতা ও মানবপ্রেমে আমরা সত্যিই অভিভূত।

এলাকার ব্যবসায়ী রকি, চাকরীজীবি মহিম, পাড়ার ছেলে জাকির, তায়েফ, লিপন, আনাস, তোফাজ্জল, তানভীর ও হাসানসহ আরো অনেককে সাথে নিয়ে সে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছে তার এই মানবিক কাজটি।

চাল ডাল তেল পেয়াজ আলু আদা ও সাবানসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যই রয়েছে তার দেয়া খাদ্যসামগ্রীতে।

লাল মিয়া জানান, এই কাজটি করতে গিয়ে আমি সর্বপ্রথম আমার পকেট থেকে কিছু টাকা বন্ধুদের হাতে তুলে দিয়েছি। তারপর বন্ধুরা কিছু টাকা দিয়েছে।

এরপর আমরা এলাকার স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হয়েছি। তাঁরা অনেকেই আমাদের উৎসাহ দেখে টাকা পয়সা ও বাজার সদাই দিয়েছেন।

কেউ কেউ বিকাশে টাকা পাটিয়েছেন। অথচ কেউই প্রচারে আসতে চাননা।

আমিও এসব ভালমানুষের ভালবাসা ও মানবতাবোধ দেখে মারাত্মকভাবে উৎসাহ বোধ করে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা যাদেরকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি তারা নিতান্তই অসহায় মানুষ। পৌরসভা বা অন্য কোন সরকারী সাহায্য তাদের ভাগ্যে জীবনেও ঘটেনি।

এই কাজটি করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য একটাই সমাজের বিত্তবান মানুষরা যাতে সকল অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন। একজন পিওন হয়ে একশত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আমি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই ইচ্ছে করলে ধনী লোকেরা আরো বড় পরিসরে মানুষের জন্য সেবা প্রদান করতে পারেন।

উল্লেখ্য করোনা ভাইরাসের কারণে সুনামগঞ্জের সব কিছুই এখন বন্ধ। যে কারণে সুনামগঞ্জে অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন (অপ্রকৃতস্থ) মানুষ খাদ্যসঙ্কটে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছিল।

যাদের ঠিকানা রাস্তায়, ব্রীজে,ফুটপাতে কিংবা গাছতলায়। একসময় তাদের খাবার জুটত বিভিন্ন হোটেল-রেস্তুরা থেকে। কিন্তু সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে অসহায় মানুষগুলো ক্ষুধার জ্বালায় আরও কাহিল হয়ে ওঠে। ঠিক এমন সময় তাদের পাশে দাড়িয়েছিল এই লাল মিয়া।

তার সাথে ছিল আলমগীর, রকি, তপু, দিদার ও মহিমসহ ৬ জন হৃদয়বান কর্মজীবী যুবক।

যারা নিজেরাও আজ কযেকদিন ধরে বেকার। এরা প্রত্যেকেই একেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

খোজ নিয়ে জানা যায়,করোণা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জেলা শহরে লকডাউন শুরু হলে প্রত্যেকদিন রাতে ভারসাম্যহীন (অপ্রকৃতস্থ) মানুষদেরকে ১ বেলা খাবারের যোগান দিয়েছিল যুবক লাল মিয়া ও তাঁর বন্ধুরা। ২৮ মার্চ শনিবার থেকেই শুরু করেছিল সে তার মানবিক কার্যক্রম।

মানবতাবাদী লাল মিয়া জানান, সুনামগঞ্জ শহরের মানসিক ভারসাম্যহীন লোকগুলো কারও না কারও সন্তান।

এ সমাজেরই মানুষ তারা। পৃথিবীতে তাদেরও অধিকার রয়েছে দু’বেলা-দু’মুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার। এখন ওরা পেটপুরে খেতে পারছে।

লাল মিয়া ও তার বন্ধুদের এমন মানবতার কর্ম দেখে নিত্যদিন কেউ না কেউ এগিয়ে আসছে ভারসাম্যহীন মানুষদের খাবার দিতে। সারা বিশ্বে করোনার আঘাতে মানবজাতি যখন দিশেহারা তখন বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

তাই মানবিক দিক বিবেচনায় এনে প্রান্তিক জেলা সদর সুনামগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমরা তাদের মধ্যে খাবার বিলিয়ে দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের এ প্রচেষ্টায় সমাজের বিত্তবান মানুষরাও মানবতার রক্ষার তাগিদে ভূমিকা পালন করুক।

গান কবিতা ও আড্ডা শহর সুনামগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ^ মানচিত্রে যে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছিলেন সেই দেশকে পরিচালনা করার জন্য বাংলার ঘরে ঘরে তিনি সোনার মানুষের প্রত্যাশা করেছিলেন।

জাতির জনক চেযেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ দরকার। জীবদ্ধশায় তিনি সোনার মানুষ দেখে যেতে পারেননি।

কিন্তু ওয়ালটনের কর্মচারী সুনামগঞ্জের তেঘরিয়ার বাসিন্দা লাল মিয়া ইতিমধ্যে তার মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ করেছে সোনার বাংলা গড়ার উপযুক্ত খাটি সোনার মানুষই সে। দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক আহমদুজ্জামান চৌধুরী হাসান মানবতাবাদী লাল মিয়ার সাফল্য কামনা করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =