রাঙ্গুনিয়ার গ্রামে গ্রামে চলছে স্বঘোষিত লকডাউন 2

রাঙ্গুনিয়ার গ্রামে গ্রামে চলছে স্বঘোষিত লকডাউন

এম. মতিন, চট্টগ্রাম:

উপজেলা প্রশাসন থেকে লকডাউনের ঘোষণা বা নির্দেশনা না থাকলেও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গ্রামে গ্রামে চলছে স্বঘোষিত লকডাউন। রাস্তাঘাটে নেই কোন যান চলাচল। নেই কোন জনমানবের পিনপতন আওয়াজ।

তবুও কভিড-১৯ নামের অদৃশ্য ঘাতকের ভয় আর করোনা আতঙ্কে গুটিয়ে গেছে জনজীবন।

উপজেলা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মেঠোপথ সর্বত্র এখন জনশূন্য। এরপরও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাড়া-মহল্লা বাঁশের ব্যাটিকেড দিয়ে স্বেচ্ছায় লকডাউন করেছে এলাকাবাসী।

এদিকে সারাদেশের ন্যায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রশাসন যখন করোনাভাইরাসের সংক্রামণ প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর, তখন নিজেদের গ্রামকে সুরক্ষিত রাখতে ও বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে পাড়া, মহল্লার প্রবেশ পথে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে লকডাউনের এ প্রচেষ্টা চলছে। এই ব্যারিকেডের উদ্দেশ্য গ্রামে বা পাড়ায় নতুন কারো আগমন যেন না ঘটে। পাশাপাশি যানবাহনের চলাচলও বন্ধ। এছাড়াও অপ্রয়োজনে সাধারণ মানুষ যেন ঘুরাঘুরি না করতে পারে।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার হোচনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর, মোগলবাড়ি, ৩নং রাঙ্গুনিয়ার ব্রক্ষত্তোর পাড়া, সাহাবদিনগর, ১নং রাজানগরের ভরনছড়ি, সাতঘড়িয়া পাড়া, ইসলামপুরের সায়ের মোঃ বাড়ী, ঘাগড়ারকুল, দক্ষিণ রাজানগরে খন্ডলিয়াপাড়া, সাদেকেরপাড়া, রাজাভুবন, লালানগরের আলমশাহ পাড়া, গজালিয়া, ঘাগড়া খিলমোগল, পারুয়ার সৈয়দনগর, চন্দঘোনার মোল্লাপাড়া, শিলক, কোদালা, বেতাগী, পোমরা, পদুয়া মরিয়ম নগর, সরফভাটা ইউনিয়নসহ পৌরসভার মুরাদ নগর, ইছাখালীর গুচ্ছ, নোয়াগাঁও, ভুবানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রবেশ মুখে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আবার বাঁশের ব্যারিকেডের ওপর টাঙানো আছে কাগজের সাইনবোর্ড। তাতে লেখা আছে এলাকা ‘লকডাউন’, দয়া করে কেউ আসা যাওয়া করবেন না।

এ বিষয়ে ব্রক্ষত্তোর পাড়া বাসিন্দা ছালামত উল্লাহ বলেন, ‘পাড়ায় করোনা ঝুঁকি এড়াতেই সচেতন এলাকাবাসী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে বহিরাগত মানুষজনের চলাফেরা বন্ধ হয়েছে।’

ইসলামপুর ইউনিয়নের সায়ের মোহাং বাড়ির আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এ গ্রাম ও রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অবাধে ইটের ট্রাক, বালু ও মাটি ইটভাটায় পরিবহন করছে একটি চক্র। ফলে গ্রামে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। গ্রামবাসীর সুরক্ষার চিন্তায় এলাকার ছাত্র, যুবক ও তরুনরা স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশের ব্যারিকেট দিয়েছে। যাতে বহিরাগতরা গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে উপজেলার কোন গ্রাম, পাড়া বা মহল্লা এখনো লকডাউন করা হয়নি। বহিরাগতদের প্রবেশে ঠেকাতে এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তবে এটি নিয়ে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − seven =