মানিকগঞ্জে ত্রাণের নামে প্রতারণা 2

মানিকগঞ্জে ত্রাণের নামে প্রতারণা

মানিকগঞ্জে ত্রাণের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য আবুল বাশার এবং মানিকগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর জেসমিন আক্তার বলেন তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার দু:স্থ মানুষের মাছে ত্রাণের স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) সকালে তাদের কাছে বিভিন্ন জনের কাছ তেকে একের পর এক ফোন কল আসতে থাকে। তাদের ফোন পেয়ে বাড়ির বাইরে এসে দেখতে পান শতাধিক লোক ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন।

জিজ্ঞেস করতেই তারা বলেন, তারা ত্রাণ নিতে এসেছেন। তাদেরকে দেওয়া স্লিপও দেখান। ওই স্লিপে দেখা যায় তাদের নাম এবং মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।

স্লিপ হাতে ত্রাণ নিতে আসা ব্যক্তিরা বুঝতে পারলেন, ওই জনপ্রতিনিধিদের হেয় করতেই কিছু অসাধু ব্যক্তিরা তাদের কাছে স্লিপ বিতরণ করেছে।

কথা হয় তাদের অনেকের সাথেই। তারা বললেন, তারা কর্মজীবী মানুষ। সারাদেশে করোনা সংক্রমনরোধে সরকার যানবাহন চলাচল, দোকান-পাট বন্ধ রেখেছে। এই কারণে তারা এখন একটু সমস্যায় পড়েছেন। তারা শুনছেন সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছেন।

তাই তারা ত্রাণ নিতে এসছেন। কিন্তু ত্রাণ দেওয়ার নামে তাদের সাথে এই প্রতারণায় খুব কষ্ট পেয়েছেন।

ওই স্লিপ হাতে যারা ত্রাণ নিতে এসছেন তাদের মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া গ্রামের রিক্সা চালক মোসলেম একজন।

তিনি বলেন বলেন, ৩ মেয়ে ১ ছেলেসহ ৫ জনের সংসার তার। খুব কষ্টে চলছে তার সংসার। কোন ধরণের সহায়তা তিনি এখন পাননি। গতকাল সন্ধ্যায় জয়রা এলাকায় তার হাতে এক যুবক ওই স্লিপ দিয়ে বলেন, কালীবাড়ি গেলেই ত্রাণ পাওয়া যাবে। তাই তিনি একটু সহায়তার জন্য সেখানে এসেছেন।

নওখন্ডা এলাকার জানু বেগম বলেন, তার স্বামী হাবু মিয়া রিক্সাচালক। এখন তার স্বামীর কোন আয় নাই। খুব কষ্টে চলছে তার সংসার। তাই তিনি স্লিপ পেয়ে ত্রাণ নিতে এসছেন।

পশ্চিম দাশড়া এলাকার সোহাগী রাণী, বড় সরুন্ডী এলাকার শারমীন আক্তারসহ অনকেই এসেছেন ত্রাণ নিতে।

ওই দুই জনপ্রতিনিধি বলেন, তারা সাধ্যমত সহায়তা করছেন। তবে, ত্রাণের নামে এই দরিদ্র মানুষের সাথে প্রতারণা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তারা ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ওই দুইজন জনপ্রতিনিধি তার কাছে বিষয়টি জানান। তিনি তাদেরকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

-শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − eighteen =