বড়লেখায় খুন ও আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা 2

বড়লেখায় খুন ও আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা

বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল চা বাগানে স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বড়লেখা থানায় হত্যা ও অপমৃত্যুর মামলা দুটি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি ইয়াসিনুল হক।

এর আগে একইদিন সকালে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী জলি বক্তা (৩০), শাশুড়ি লক্ষ্মী ব্যানার্জি (৬০), ভাই বসন্ত বক্তা (৩৫) ও তার মেয়ে শিউলি বক্তাকে (১২) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন নির্মল কর্মকার (৩২) নামে এক যুবক।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে। এসময় পালিয়ে রক্ষা পায় নিহত স্ত্রীর আগের পক্ষের মেয়ে চান্দনা (৮)। তবে কর্মকারের কোপে গুরুতর আহত হন আরেক নারী। যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী পাল্লাথল চা বাগানের বাজার টিলার বাসিন্দা বিষ্ণু বক্তার মেয়ে বাগান শ্রমিক জলি বক্তাকে প্রায় ছয় মাস আগে বিয়ে করেন নির্মল কর্মকার।

জলির আগের স্বামীর ঘরের চন্দনা নামে ৮ বছরের একটি মেয়েশিশুও তাদের সঙ্গে থাকত। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নির্মল ও জলির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্মল ধারালো দা দিয়ে জলিকে কোপাতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে মা লক্ষ্মী ব্যানার্জির ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন।

নির্মল সেখানে ঢুকে জলি, তার মা লক্ষ্মী ব্যানার্জি, ভাই বসন্ত বক্তা ও ভাইয়ের স্ত্রী কানন বক্তা এবং তাদের মেয়ে শিউলি বক্তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এরপর ঘাতক নির্মল কর্মকার বসন্তের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরে স্থানীয়রা এসে গুরুতর আহত কানন বক্তাকে (৪০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বড়লেখা থানার কর্তব্যরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রোকসানা বেগম জানান ‘অভিযুক্ত খুনি নির্মল মাদকাসক্ত ছিলেন।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − 7 =