বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে মারল দিল্লির হিন্দুবাদীরা 2

বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে মারল দিল্লির হিন্দুবাদীরা

দিল্লির খাজুরি খাস শহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গমরি এক্সটেনশন লেন। সেখানে থাকেন মোহাম্মদ সাঈদ সালমানির পরিবার।

মঙ্গলবার পরিবারের জন্য দুধ কেনার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। এমন সময় তার ছোট ছেলে তাকে ফোন করে জানায়, ১০০-র অধিক সশস্ত্র জনতা তাদের লেনে ঢুকে পড়েছে। তারা দোকান ও ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। তাদের চারতলা বাড়িতেও আগুন দেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন মেঝেতে অবস্থান করছেন।

এ কথা শুনেই সালমানির মাথায় হাত। সে তার বাসার দিকে ছুটতে লাগল। এ সময় পাশের লেনের বাসিন্দারা তাকে যেতে বাধা দেয়। তারা বলে, ‘সেখানে গেলে বিপদ হতে পারে। এমনকি তারা তাকে মেরেও ফেলতে পারে। তাই অপেক্ষা করা উচিত।’

সালমান (৪৮) একজন তৈরি পোশাকের ব্যবসায়ী। ছেলের ফোন পেয়ে কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি। কয়েক ঘণ্টা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলেন সালমান। তিনি ভাবছিলেন, ততক্ষণে বোধহয় সব শেষ হয়ে গেছে। মারা গেছে পরিবারের সদস্যরা।

পরে এলাকায় গিয়ে জানতে পারলেন, দুর্বৃত্তরা বাড়ি ও দোকানপাটে আগুন দিলেও স্থানীয়দের বেশিরভাগই প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে তার মাকে বাঁচানো যায়নি। আগুনে পুড়ে তৃতীয় তলায় মরে পড়েছিলেন সালমানের ৮৫ বছর বয়সী মা আকবরি।

দুর্বৃত্তরা শুধু তার বাড়িতে আগুন লাগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা তার বাসায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও আট লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইনকে সালমান বলেছেন, ‘এখন আমার আর কিছুই নেই। আমি একদম শূন্য হয়ে গেলাম।

রোববার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ নাশকতা সোমবার আশপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার মুসলমানরা বলেছেন, দুর্বৃত্তরা একের পর এক নাশকতা চালিয়ে গেলেও পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। মঙ্গলবার হামলার আশঙ্কায় মুসলিম বাসিন্দারা পালিয়ে যান।

এদিকে রাজধানী দিল্লিতে মৃত্যুমিছিল আটকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। সহিংসতায় বুধবার আরও ৯ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তাতে চার দিনের মাথায় সেখানে মৃত্যুসংখ্যা গিয়ে ঠেকল ২৭ জনে। আহতের সংখ্যাও ২০০ ছাড়িয়ে।

এদিকে চলমান কারফিউর মধ্যেই ভগবানপুরে স্কুলবাসে লাগানো হল আগুন।এমন পরিস্থিতিতে দলে দলে দিল্লি ছাড়ছেন সাধারণ মানুষজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − thirteen =