বিশ লাখের ডাস্টবিন, তবুও বিষাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 2

বিশ লাখের ডাস্টবিন, তবুও বিষাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সবুজে ঘেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য যে কারোর মন কেড়ে নিবে সহজেই। তবে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ডাস্টবিন বসানো সত্ত্বেও ব্যবহার হচ্ছে না সেগুলো। এতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। অথচ বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমপ্লেক্স ভবনের সামনে, শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের পেছনে, সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশে, সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের পূর্ব পাশসহ সব আবাসিক হলের আশেপাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় ডাস্টবিন রয়েছে। কিন্তু সেগুলো সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে না।

বেশিরভাগ ডাস্টবিনের আশেপাশে ময়লাগুলো স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে ছড়াচ্ছে র্দূগন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গাতেই ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন খাবার হোটেল, চা, চটপটি-ফুচকার দোকানের উচ্ছিষ্ট ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলছেন না দোকানের কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ড শাখার কর্মচারীরাও¡ সঠিকভাবে তাদের দায়িত পালন করছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর জানায়, ২০ লাখ টাকা বাজেটে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় মিলে ৫৩টি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় ২৮টি এবং ছোট ২৫টি। বড় ডাস্টবিনের প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদাভাবে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কয়েক বছর আগেও ক্যাম্পাস বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিলো। এখন তা নেই বললেই চলে। ক্যাম্পাসের ভাসমান হোটেল, দোকানগুলো এর জন্য দায়ী। তারা নিয়ম কানুন না মেনে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ড শাখার কর্মচারীরা শুধু শহিদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবন, গ্রন্থাগারের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু ক্যাম্পাসের অন্য জায়গাগুলোর ব্যাপারে তারা উদাসীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ড শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মোসলেম উদ্দিন বলেন, সচেতনতার অভাবে মানুষেরা ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে বাইরে ফেলছে। বিভিন্ন হল ও ডিপার্টমেন্টের আশেপাশের ডাস্টবিনগুলো আমরা সময় মতো পরিষ্কার করি। যারা ব্যবহার করে তাদের দায়িত্ব হলো যথাযথ ব্যবহার করা। তাদের ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনের ভিতরে ফেলার কথা। কিন্তু তারা যদি বাইরে ফেলে আমাদের কিছু করার থাকে না। ডাস্টবিনে আবর্জনা ভর্তি হলেই আমরা তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, সচেতনতার অভাবে মানুষ এমন কাজ করছে। সাধারণত ডাস্টবিনেই সবাই ময়লা-আবর্জনা ফেলে। মাঝেমাঝে বাইরে চলে আসতে পারে। তাড়াহুড়োর কারণে অনেকেই ময়লা আবর্জনা বাইরে ফেলে দিয়ে যায়। কিন্তু এটা যে ডাস্টবিনের মধ্যে ফেলেনা তা নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খুব যতœ সহকারে কাজ করি।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে স্টুয়ার্ড শাখাকে নির্দেশ দেই। সারা শহরে ঘুরলে দেখা যাবে রাস্তাঘাটে যে পরিমাণ ময়লা তার তুলনায় আমাদের ক্যাম্পাস অনেক বেশি পরিষ্কার। কেউ ডাস্টবিনের ভিতরে না ফেলে বাইরে ফেললে সেটাতে আমাদের তো কিছু করার থাকে না। আমরা চেষ্টা করি তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য যাতে এরকম কাজ না করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + sixteen =