বন্ধ হচ্ছে চীনের সেই মাংসের বাজার! 2

বন্ধ হচ্ছে চীনের সেই মাংসের বাজার!

বাইরে বিশ্বের আরও অন্তত ৩৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস।

এটি এখন এক বিশ্ব-মহামারীতে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশংকা করছে বিশেষজ্ঞরা।

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চীনে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া, ইটালি এবং ইরানেও এখন যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে তাতে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।

এমতাবস্থায় চীনে আইন করে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বুনোপশুর মাংসের বাজারে কেনাবেচা। দেশটির হুবেইপ্রদেশের রাজধানী উহানের একটি বুনোপশুর বাজারে সাপ, কুমির, বানর, খরগোশ থেকে শুরু করে সব বন্যপ্রাণীর মাংস বিক্রি করা হয়ে আসছিল।

সেই বাজার থেকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির শীর্ষ আইন পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই চীনের বাজারগুলোতে বুনোপশুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বুনোপশুর মাংস থেকেই যে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে- এমন অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা দাঁড় করাতে পারেনি। তারপরও বুনোপশুর বাজার থেকেই এমন মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জোর ধারণা।

এখন পর্যন্ত চীনসহ গোটা বিশ্বে ২ হাজার ৭০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চীনের হুবেইপ্রদেশে। এ কারণে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে প্রদেশটিকে।

চীনের বাইরে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। জার্মানিতে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হংকংয়ে ৮১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুইজন। ভারতে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ইরানে ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১২ জন (বেসরকারি সূত্র বলছে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০ জন)।

ইরাকে একজন, ইসরায়েলে দুইজন, ইতালিতে ২২৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন সাতজন। জাপানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪০ জন, মারা যাওয়ার সংখ্যা চারজন (ছয়শ ৩৯ জন ডায়মন্ড প্রিন্সের জাহাজে কোয়ারেন্টাইনে)।
কুয়েতে আক্রান্তের সংখ্যা আটজন। লেবাননে একজন, ম্যাকাওয়ে ১০ জন, মালয়েশিয়ায় ২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া নেপালে একজন, ওমানে দুই নারী আক্রান্ত হয়েছেন।

ফিলিপাইনে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন, মারা গেছেন একজন। রাশিয়ায় দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। সিঙ্গাপুরে ৯০ জন আক্রান্ত, এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন নয়জন। স্পেনে দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় একজন, সুইডেনে একজন, তাইওয়ানে ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। থাইল্যান্ডে ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংযুক্ত আবর আমিরাতে নয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ১৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ভিয়েতনামে ১৬ জন আক্রান্ত, আফগানিস্তানে আক্রান্ত রোগী একজন।

অস্ট্রেলিয়ায় ২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বাহরাইনে দুইজন, বেলজিয়ামে একজন, কম্বোডিয়ায় একজন, কানাডায় ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মিসরে এবং ফিনল্যান্ডে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 1 =