পাবনায় আইনজীবীসহ জামিনে থাকা দুই আসামীকে মারপিট 2

পাবনায় আইনজীবীসহ জামিনে থাকা দুই আসামীকে মারপিট

পাবনায় প্রকাশ্য দিবালোকে আদালত চত্ত্বর থেকে এক আইনজীবী এবং জামিনে থাকা দুই আসামীকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণের পর মারপিটের অভিযোগ উঠেছে বাদিপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পাবনার জজকোর্ট চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

পরে আইনজীবী সমিতি এবং পুলিশি তৎপরতায় বেলা দেড়টার দিকে পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় আইনজীবীকে এবং পাশের রাস্তায় দুই আসামীকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

জানা গেছে, যৌতুক ও মারপিটের অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে তানমিরা ইয়াসমিন আলিফ বাদি হয়ে তার স্বামী আবু সাইদ মোল্লাসহ চারজনকে আসামী করে ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে মামলা করেন। মামলা নম্বর ১১৩/১৮।

পাবনা জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ ইকবাল লিটন জানান, সোমবার ছিল সেই মামলার চার্জ গঠনের দিন। শুনানী শেষে বিচারক মামলার দুই আসামী নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ভরতপুর গ্রামের আবু সাঈদ মোল্লা (৪০) এবং শহিদ মোল্লা (৩৭) মোল্লার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর ১২টার দিকে মামলার আসামীপক্ষের আইনজীবী সাইদুল ইসলাম চৌধুরী দুই আসামীকে নিয়ে আদালত চত্ত্বর থেকে বের হন।

এ সময় একই মামলার বাদী মোছা: তানমিরা ইয়াসমিন আলিফ’র বাবা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে ৯/১০ জন সশস্ত্র যুবক আইনজীবী সাইদুল ইসলাম এবং ঐ দুই আসামীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আসামী সাঈদ মোল্লা ও শহিদ মোল্লাকে রড দিয়ে বেদম মারপিট করতে থাকে। আদালত চত্ত্বরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও কেউ অপহরণকারীদের বাধা প্রদান করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ ইকবাল লিটন আরও জানান, অপহরণকারীরা তাদের অপহরণ করে সরাসরি পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানে কার্যালয়ে নিয়ে যান। পুলিশকে ফোন করার পর পুলিশ পিছু নেওয়ায় অপহরনকারীরা আইনজীবী সাইদুল ইসলাম চৌধুরীকে ছেড়ে দেয় এবং ঐ দুই আসামীকে মারতে থাকে। পরে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশারোফ হোসেন ঐ দুই আসামীকে অপহরনকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। নিরাপত্তার অভাববোধ করায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

আহত দুইজন সাঈদ মোল্লা ও শহিদ মোল্লা জানান, আদালত থেকে বের হওয়ার উকিলসহ পরপরই তাদের ধরে নিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে মারপিট করে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ছেড়ে দিলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তারা।

আসামীপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কোর্ট থেকে নামার পর বাদিপক্ষের লোকজন আসামীদের মারধর করে। এরপর আমাকেসহ আসামী দুইজনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আবারো মারধর করে। পরে আমাদের সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যায় তারা। সেখানে মারধরের চেষ্টা করলে উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদের রক্ষা করেন এবং তার প্রতিনিধি দিয়ে আমাকে আদালতে পৌঁছে দেন এবং আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবিরা। জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম পটল জানান, আদালত চত্বরে এমন ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আইনজীবি যদি নিরাপত্তা না পায় তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়। আমরা এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, বাদি-বিবাদিদের মধ্যে একটা ঝামেলার খবর শোনার পরপরই পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। আবার এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মৌখিক বা লিখিত অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাহীন রহমান/পাবনা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 17 =