ধামরাইয়ে করোনা আক্রান্ত বলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ 2

ধামরাইয়ে করোনা আক্রান্ত বলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ

শাকিল খান: ধামরাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধামরাইয়ে করোনাভাইরাস আক্রান্তের কথা বলে এক ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদাররা (গ্রাম পুলিশ)।

সোমবার সকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে।

মাস্ক না পড়ে রাস্তায় বের হলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতায় দায়িত্ব পালনকারী চৌকিদাররা ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রের গতিরোধ করলে বিতর্কে জড়ালে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

ওই ছাত্রের নাম মোহাম্মদ আলী আজম খান। তিনি সোমভাগ ইউনিয়নের ডাউটিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল আলীম খানের ছেলে ও আইইউবিএটি নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র মো. আলী আজম খান জরুরি কাজে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে আসেন। এ সময় তিনি মাস্ক পরিহিত ছিলেন না।

বাজারে আসামাত্রই বিষয়টি নজরে আসে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতায় কর্তব্যরত সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের। মাস্ক না পড়ে বাড়ির বাইরে আসার কারণ জানতে চাইলে ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র তাদের কথার কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন।

এতে ওই গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং সঙ্গে সঙ্গে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে ওই ছাত্র গুরুতর আহত হন। তার প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

তখন গ্রাম পুলিশরা উপস্থিত লোকজনদের বলেন, আপনারা দেখছেন তো ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ওর কাছে কেউই নিরাপদ না। তাই ওকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে হবে।

এরপর ওই দুই গ্রাম পুলিশ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে অবহিত করেন। এরপর এসআই তন্ময় সাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রকে থানায় নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ সাধন ও সাগর বলেন, আমরা করোনা প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে চেয়ারম্যান ও থানার ওসির নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালনকালে সকালের দিকে দেখতে পাই ওই ছেলেটি হাঁপাতে হাঁপাতে ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার দেখি মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস নেই। তাকে ডেকে এ সব না পড়ার কারণ জানতে চাইলে সে এর কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো আমাদের ওপর ক্ষেপে যায়।

তারা বলেন, ছেলেটির প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে। তাই তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। তার অবশ্যই ডাক্তারী পরীক্ষা করা উচিত।

এ ব্যাপারে ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র মোহাম্মদ আলী আজম খান বলেন, আমার কোনো শ্বাসকষ্ট,কাশি কিংবা ঠাণ্ডাজনিত কোনো রোগই নেই। মাস্ক পড়া নিয়ে তর্কে জড়ানোয় গ্রাম পুলিশরা আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। উল্টো করোনাভাইরাসে আক্রান্তের অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার এসআই তন্ময় সাহা বলেন, সাধন ও সাগর নামে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের দুই গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে আলী আজম নামে ওই ছাত্রকে মাস্ক না পড়ার কারণ জানতে চায়। এতে সে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে ওই গ্রাম পুলিশরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কথা বলে তাকে আটক করে মারধর করে। এরপর তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।

তিনি বলেন, ওই যুবককে পরীক্ষা করে দেখা হবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে হোম কোয়ারেন্টিনে আর আক্রান্ত না হলে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 14 =