ত্রাণের জন্য সড়কে নামলো কর্মহীন মানুষ 2

ত্রাণের জন্য সড়কে নামলো কর্মহীন মানুষ

বাড়িতে খাবার না থাকায় লালমনিরহাটে কয়েক শত কর্মহীন মানুষ ত্রানের জন্য রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার এসে ত্রান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বিক্ষুব্ধ কর্মহীন মানুষ গুলো ঘরে ফিরে যায়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এ বিক্ষোভ করেন কর্মহীন সাধারন মানুষ।

জানাযায়, মরনঘাতি করোনা ভাইরাসের কারনে সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাটেও ত্রান না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কাজে বাহির হতে না পারায় এবং বাড়িতে খাবার না থাকায় জেলার অনেক জায়গায় সাধারন খেটা খাওয়া মানুষ গুলো চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন পার করছেন। এক পর্যায়ে বাড়িতে খাবার না সরকারী ত্রানের জন্য কয়েকশত কর্মহীন মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার এসে তাদের ত্রান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বিক্ষুব্ধ কর্মহীন মানুষ গুলো ঘরে ফিরে যায়।

এদিকে লালমনিরহাটে কর্মহীন মানুষজনের জন্য গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা জুড়ে যে ত্রাণ বিতরণ হয়েছে তাতে সরকারি ত্রাণের তুলনায় ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তার পরিমাণই বেশি। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ না করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরকারি ভাবে আরও ত্রাণ চেয়ে ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় নিম্ন আয়ের ২২ হাজার ২৫০টি পরিবারের মাঝে সরকারি ভাবে এ যাবত মোট ৩১৯ মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জমান সুজন বলেন, মানুষের চাপ সামলানো যাচ্ছে না। কর্মহীন মানুষের চাপে বাড়িতেই থাকা যাচ্ছে না। দ্রুত সরকারি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দরকার। তবে সরকারি এই ত্রাণ তৎপরতার তুলনায় বেসরকারি পর্যায়ে ব্যক্তি উদ্যোগেই বেশি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে মাঠ পর্যায়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১ লাখ ৭ হাজার ৩১৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের চাহিদার একটি তালিকা পাওয়া গেছে। ত্রাণ সামগ্রী চেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ১৫শত পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ৫ শতাধিক পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

লালমনিরহাট-২ আসনের (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৫৬ পরিবারকে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + seven =