টাকা নিচ্ছে না ফকির, চাচ্ছে পেঁয়াজ! 2

টাকা নিচ্ছে না ফকির, চাচ্ছে পেঁয়াজ!

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এমতাবস্থায় টাকার পরিবর্তে ভিক্ষা হিসেবে পেঁয়াজ চাচ্ছেন ভিক্ষুকরা।

পেঁয়াজের ঝাঁজে বাজারে কাঁদছে পুরুষ, ঘরে নারী
সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার অধিকাংশ দোকানে পেঁয়াজ নেই। দু-একটি দোকানে অল্প পরিমাণে দেশি পেঁয়াজ থাকলেও ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের কেউ কেউ পেঁয়াজ না কিনে ফিরে গেছেন। আবার কেউ কেউ ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ ৪০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

পেঁয়াজ ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, কাল পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৪০ টাকা। আজ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ৪০ টাকা দিয়ে ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনেছি। তরকারিতে পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি আমরা।

খুচরা ব্যবসায়ী মীর আবু হোসেন বলেন, বুধবারও ১৫০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমাদের কিছুই করার নেই। পেঁয়াজের আমদানি খুব কম। দেশি পেঁয়াজ ছাড়া বাজারে কোনো পেঁয়াজ নেই। যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে বোঝা যায় পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে।

পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন আমার ১০০ বস্তা পেঁয়াজ লাগে। কিন্তু এখন মাত্র ৪০ বস্তা পেঁয়াজ আমদানি করি। বিদেশি পেঁয়াজ যেগুলো দেশে আসছে তা ঢাকা-চট্টগ্রামে শেষ হয়ে যায়। এখানে পৌঁছে না।

পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা কামরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় দুই নারী ভিক্ষুক এসে বলেন, আল্লারস্তে দুইডা পেঁয়াজ ভিক্কা দেনগো বাবা।

এ সময় কামরুল ইসলাম দুই ভিক্ষুককে দুই টাকা করে দিতে চাইলে তারা টাকার বদলে পেঁয়াজ চান। পরে একটি করে পেঁয়াজ দিয়ে তাদের বিদায় করেন পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা কামরুল।

এদিকে ভোলার লালমোহনের উত্তরবাজার, মধ্যবাজারসহ প্রায় সব দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকায়।

এছাড়াও জামালপুরে ২০০ টাকা ও চট্টগ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 18 =