ঝুঁকিতে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন ভবন 2

ঝুঁকিতে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন ভবন

ভবনের ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। আর তাতেই ভিআইপি রুম পানিতে সয়লাব। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল জানান দিচ্ছে কাজের মান কেমন হয়েছে। পা দিয়ে ঘষলেই ছাদের প্যাটার্ন স্টোন (ওয়ারিং কোর্স) ভেঙে যাচ্ছে। বেরিয়ে আসছে বালু আর কিছু ছোট পাথর।

হস্তান্তরের ৯ মাসেই কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সদ্য নির্মিত ভবনটির এ হাল হয়েছে। এক কোটি টাকায় নির্মিত কাজটি করেন ঠিকাদার রমজান আলী। তিনি মহানগর যুবলীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় এখানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী এসব কাজের প্রতিবাদ করেছেন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা অন্য সরকারি কাজের চেয়ে এ কাজের মান ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

আব্দুল হাকিম নামের এক বাসিন্দার অভিযোগ, কাজের নকশা দেখতে চাইলেও তাঁরা দেখাননি। ব্যাচসহ সব কাজে রডের পরিমাণ কম দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ অনেক কম দেওয়া হয়েছে। খোয়া আর সিমেন্টের অনুপাত ৪:১ হওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৮:১। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। নকশা দেখতে চাওয়ার অপরাধে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

স্থানীয় শ্রমিক রায়হান আলী অভিযোগ করেন, সিমেন্ট কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ডিজাইনবহির্ভূত নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার ছাড়াও সেপটিক ট্যাংক, রং, দরজাসহ সব কাজেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘রেল বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় নি¤œমানের কাজ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলেও থানা থেকে পুলিশ আনা হতো। ভয় দেখানো হতো।’

ওই ভবনে দেখা যায়, আগামী ১৬ অক্টোবর কুড়িগ্রাম থেকে একটি আন্ত নগর ট্রেনের উদ্বোধন উপলক্ষে তোড়জোড় চলছে নানা কাজের। এর মধ্যে ভবনটির যেসব অংশের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, তা চুনকাম করতে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা। কার্য সহকারী আব্দুল ওয়াদুদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কয়েকজন পা দিয়ে ছাদের প্যার্টান স্টোন (ওয়ারিং কোর্স) ভেঙে শুধু বালু বের করেন। কাজের মান ভালো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তদারকির দায়িত্বে ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্টেশন মাস্টার কাবিল উদ্দিনের দাবি, ভবনটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। কে কখন হস্তান্তর করেছে, তাও জানেন না। তাঁকে একটি রুম ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে মাত্র।

রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের সহকারী প্রকৗশলী সাইদুর রহমান চৌধুরী দাবি করেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

এজিএল/কুড়িগ্রাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =