চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ২৩৬ বন্দীকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব 2

চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ২৩৬ বন্দীকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব

এম. মতিন, চট্টগ্রাম: করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সচেতনতামুলক কার্যক্রমের পাশাপাশি কারাগার থেকে বন্দীর সংখ্যা কমানোর প্রক্রিয়ায় সারাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ৩ হাজার হাজতি ও দেড় হাজার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দেয়ার কথা ভাবছে সরকার।

এক্ষেত্রে যাদের সাজার মেয়াদ অর্ধেক বা তার বেশি সময়কাল পার হয়েছে, যেসব মামলায় সর্বোচ্চ এক বছরের সাজা হতে পারে সেই সব বন্দীদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় করোনা ভাইরাসজনিত কারণে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৩৬ জন বন্দীকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন।

জানা গেছে, ১ হাজার ৮’শ জন বন্দীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ৭ হাজার জন বন্দী আছে। এতে ধারণ ক্ষমতার ৪ গুন বেশি বন্দী নিয়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ২৩৬ জন বন্দীর তালিকা সাপ্তাহখানেক আগে কারা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। কারা মুক্তির জন্য পাঠানো প্রস্তাবে মধ্যে অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধে ১৫১ জন বিভিন্ন বিচারাধীন মামলার আসামী (হাজতি) ও ৮১ জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী। যাদের সাজার মেয়াদের তিন ভাগের দুই ভাগ ইতোমধ্যে কারাগার কাটিয়েছেন এবং অচল ও অক্ষম সাজাপ্রাপ্ত ৪ জন বন্দীর নাম রয়েছে।

জেলা সুপার আরও বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৪গুণ বেশি বন্দী রয়েছে। প্রতিটি কক্ষেরই অনেক বন্দী থাকেন। তাদের অন্যত্র যাওয়ার সুযোগও থাকে না। তাই এ ধরনের আবদ্ধ জায়গায় করোনার সংক্রমণ ঘটলে তা বিপজ্জনক হতে পারে। এই বিবেচনা করেই এবং করোনা ঝুঁকি এড়াতে কারাগারের ভেতরে -বাইরে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। আগে প্রতিদিন ১’শ থেকে দেড়শো নতুন বন্দী কারাগারে আসলেও বর্তমানে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন বন্দী আসছে।

কারাগার হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। শেখ রাসেল ভবনকে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড হিসাবে তৈরি রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ জন বন্দীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

নতুন বন্দীদের কারাফটকে কারা চিকিৎসকের তত্ত্ববধানে গঠিত টিম জ্বর কিংবা করোনার লক্ষণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করানো হয়। নতুন বন্দীরা বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনের কাছে ছিলেন কিনা কিংবা বিদেশ থেকে কেউ এসেছে কিনা তা যাছাই করা হচ্ছে। এসবের কিছু পাওয়া গেলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। ১৪/১৫ দিন পার হবার পর তাকে সাধারণ বন্দীদের ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে। তবে করেনায় জীবাণু বহনকারী কোন বন্দী এখনো পায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার কামাল হোসেন।

জেলা সুপার বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটানো হচ্ছে নিয়মিত। প্রতিটি ওয়ার্ডে বন্দীদের তৈরি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। হাত মুখ ধোয়ার জন্য কারাগারের ভেতরে ৭টি ও বাইরে ৪টিসহ মোট ১১টি নতুন বেসিন বাসানো হয়েছে। বন্দীদের দেখাশোনার বিষয়ও সীমিত করা হয়েছে। জেল কোড অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মাসে ১দিন ও হাজতী বন্দীদের মাসে ২দিন দেখা করার সুযোগ পাবেন স্বজনরা। ১ জন বন্দীর সাথে ১ জন ব্যক্তি সাক্ষাৎ করতে পারবেন। কোন বন্দীর গুরুত্বপুর্ণ কথা থাকলে পরিবারের সাথে টেলিফোনে সপ্তাহে ১দিন সর্বোচ্চ ৫ মিনিট কথা বলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে প্রতি মিনিট ১ টাকা বিল হিসেবে বন্দীর ব্যক্তিগত ক্যাশ (পিসি) থেকে এ টাকা কাটা হবে বলে বলেন জেল সুপার কামাল হোসেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − 2 =