কে কাটলো কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের আসন? 2

কে কাটলো কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের আসন?

এক দশক ধরে আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কুড়িগ্রাম-ঢাকার মধ্যে সরাসরি আন্ত:নগর ট্রেন চালু হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বহুল কাঙ্খিত ট্রেনটি উদ্বোধনের পরপরই এর আসনসহ কিছু সরঞ্জাম নষ্ট করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এজন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ রেলবিরোধী চক্রকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এমন দোষারোপকে অপপ্রচার বলে দাবি করছেন।

লালমনিরহাট রেল বিভাগ ও কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনের পর এটি পরীক্ষামূলকভাবে কুড়িগ্রাম থেকে পার্বতীপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত যাত্রা করে ফিরে আসে। এরপর দেখা যায় ট্রেনের কয়েকটি আসনের কাভার ব্লেড দিয়ে কাটা। এছাড়া কয়েকটি টয়লেটের পানির কল খুলে নেওয়া হয়েছে।

রেল বিভাগ এজন্য সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকপক্ষকে দায়ী করছে। তারা বলছে, রেলের যাত্রী কমাতেই স্থানীয় পরিবহন মালিকরা এমন কাজ করতে পারেন।

এ ঘটনা তদন্ত রেল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির তদন্তের রেল বিভাগের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির অবহেলার প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। এজন্য রেল পুলিশের অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ডেন্ট আবু হেনা শাহ্ আলম ও হাবিলদার পলাশ কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উদ্বোধনের দিন কে বা কারা ট্রেনের ভেতরে কিছু সরঞ্জামের ক্ষতি করে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল এর সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সজাগ রয়েছি।’

ট্রেনের সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগকে নেহাত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসী। তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামে একটি ভালোমানের ট্রেন চালু হোক, এটা আমরাও চাই। উত্তরবঙ্গের মধ্যে কুড়িগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১২০টি) দূরপাল্লার গাড়ি যাতায়াত করে। এ জেলায় যাত্রীসংখ্যা প্রচুর। একটি ট্রেন চালু হলে এতে পরিবহন ব্যবসার ওপর তেমন কোনও প্রভাবই পড়বে না। সুতরাং পরিবহন মালিক কিংবা শ্রমিকপক্ষের কারও কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। আমরা চাই যাত্রীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।’

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হলেও তাতে কুড়িগ্রামের জন্য বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা নিয়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আসনসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন চালুর পর থেকেই প্রতিদিনই কুড়িগ্রামের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। যাত্রীদের চাপে রংপুর স্টেশন থেকেও এ জেলার মানুষের জন্য টিকিট সংগ্রহ করে দেন স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাবিল উদ্দিন জানান, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে বর্তমানে কুড়িগ্রামের জন্য ১৪৯টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ২২৫ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেসের জন্য বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা ৪৫ পুননির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) মিয়া জাহান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের উদ্বোধনের দিন এর তিনটি সিট কে বা কারা কেটে দেয়। বিষয়টি নিয়ে লালমনিরট হাট বিভাগ থেকে একটি কমিটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ওই কমিটি যে সুপারিশ দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এজি লাভলু/কুড়িগ্রাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 − one =