কাশ্মীর ইস্যুতে মুখ যা বললেন জাতিসংঘ মহাসচিব 2

কাশ্মীর ইস্যুতে মুখ যা বললেন জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে প্রশমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকার শক্তিশালী একটি জাতীয় দৈনিক প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) তিনি এ সতর্কতার নির্দেশ দেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কাশ্মীরে এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান উভয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়ায় যুদ্ধের উপক্রম হতে পারে।

পাশাপাশি কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সকল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

১৯৪৫ সালে ঘটে যাওয়া জাপানে পারমাণবিক হামলার ৭৪ তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, দুঃখের বিষয় আজ এতোটা সময় অতিক্রম করেও আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন হতে দেখছি। পারমাণবিক অস্ত্র-সজ্জিত দেশগুলোর মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বকে সুরক্ষা দিতে যে অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ করা হয়েছে, তা এখন অনেকটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলেও জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাবিধকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের এক ঘেয়েমি নীতির ফলে সেখানে সবধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের অবাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষের স্বাধীনতা এখন বিপন্নের পথে বলে জানায় সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরিদের দেয়া বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ৩৭০ ও ৩৫ ধারা গত সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টে বাতিল করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এরপরই সংসদ ও সংসদের বাইরে চলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। যা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের অন্যান্য প্রদেশে। এতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে পাক-ভারত সম্পর্ক। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীন।

কাশ্মীরিদের দীর্ঘদিনের চাওয়া স্বায়ত্বশাসন না দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভূক্ত করায় নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো মূল্যে কাশ্মীরিদের পাশে থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর নিয়ে এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি এ রাষ্ট্রদ্বয়ের মাঝে যেকোনো সময় যুদ্ধ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মহাসচিব এ সতর্ক বার্তা দেন।

সূত্র: দ্য ডন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + ten =