করোনা মহামারীর এই পর্যায়ে কোন দিকে যাচ্ছি আমরা? 2

করোনা মহামারীর এই পর্যায়ে কোন দিকে যাচ্ছি আমরা?

এম এ রাজা : বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের আগ্রাসনে জনজীবন এখন অনেকটাই স্থবির।

স্কুল-কলেজ সরকারি অফিস যানবাহন চলাচল প্রায় সবই বন্ধ।

শুধুমাত্র কিছু জরুরী সার্ভিস আর কিছু কিছু ছোটখাটো যানবাহন চলে।

এমন অবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরা হয়ে গেছেন কর্মহীন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে খাদ্য সংকটসহ দেখা দিয়েছে নানাবিধ সমস্যা।

ইতিমধ্যে সরকারিভাবে কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু বিপত্তি এখানেই অরক্ষিত অপরিকল্পিতভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তাসহ অনেকেই।

তাই এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নতুন করে ভাবা উচিৎ।

সরকারি কর্মকর্তাদের কে দিয়ে। কর্মহীন মানুষদের ১০-১৫ দিন পর একবার ডাকলেন তারপর এদের মধ্যে ৫-১০ কেজি করে ত্রাণ বিতরণ করলেন, লাভ কি?

এই ৫-১০ কেজি ত্রাণে কর্মজীবী মানুষদের ঘরে এক থেকে দুই দিনে খাবারের ব্যবস্থা হয় সর্বোচ্চ।
ফলে বাধ্য হয়ে আবারো তারা কাজের সন্ধানে রাস্তায় নামেন, আর এই পরিস্থিতিতে দিন দিন জ্যামিতিক আকারে দেশে করোনায় আক্রান্ত বেড়েই যাচ্ছে।

অন্যদিকে অরক্ষিতভাবে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর বাহিরে স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ রেব আর্মি সহ অসংখ্য বাহিনী তো নিয়মিত আক্রান্ত হয়েই যাচ্ছেন। ধরে নিলাম তারা এই পরিস্থিতিতে সেবা দিতে বাধ্য।

তবে এই দুই ডিপার্টমেন্টসহ আরো যে সমস্ত ডিপার্টমেন্ট এই মহামারিতে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আরো ভালো মানের পিপিই দেওয়া উচিত। যাতে করে উনারা সুরক্ষিত থেকে আমাদেরকে সেবা দিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন আনা যায়।

সেই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন কেন নয়? এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে এক সময় দেখা যাবে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টের কর্মচারী কর্মকর্তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেছেন। এতে করে স্বাভাবিক দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। আর সাধারণ মানুষ তো এর বাহিরে না।

হয়তো সচেতনতার অভাবে বা বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ না থাকার কারণে পরীক্ষা করাচ্ছেন না। যার জন্য সাধারণ মানুষের আক্রান্ত সংখ্যা এই মুহূর্তে অনেকাংশেই কম দেখা যাচ্ছে।

তাই এইভাবে ৫-১০ কেজি ত্রাণ বিতরণ না করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কর্মহীন মানুষদের ঘরে এক মাসের জন্য মিনিমাম ৫০ কেজির এক বস্তা চাল পাঠিয়ে দিবেন। আর তাদেরকে বলে দিবেন যে দেশে যেহেতু মহামারী চলছে, এমন অবস্থায় শুধুমাত্র চাল সিদ্ধ করে ভাত খাবেন। বেঁচে থাকলে ভালো খাবার খাওয়া যাবে। আপাতত ঘরে থাকুন নিজে বাঁচুন দেশের মানুষকে বাঁচান।

তারপরেও যদি তারা রাস্তায় নামে তখন বলতে পারবেন। তোমাদের ঘরে তো আমরা চাল দিয়ে এসেছি তারপরও কেন তোমরা রাস্তায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + ten =