কমলগঞ্জের গ্রামে গ্রামে স্বেচ্ছায় লকডাউন 2

কমলগঞ্জের গ্রামে গ্রামে স্বেচ্ছায় লকডাউন

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের প্রশাসনিকভাবে পতনউষার ইউনিয়নের উত্তর পতনউষার গ্রামের চারটি বাড়িকে লকডাউন করে বাড়িগুলোতে লাল পতাকা লাগানোর পর, উপজেলার ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় গ্রামের প্রবেশ পথ বন্ধ করে লকডাউন করেছেন।

গ্রামগুলো হচ্ছে শমশেরনগর ইউনয়িনের সবুজবাগ, শিংরাউলী, মাধবপুর ইউনিয়নের মাঝেরগাঁও, শিমুলতলা, আদমপুর ইউনয়িনের তেতইগাঁও, ঘোড়ামারা, পশ্চিম কান্দিগাঁও, আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর চা বাগান, উত্তর তিলকপুর, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর ও চন্ডীপুর গ্রাম।

সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত ও গ্রামে বগিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধের জন্য বিভিন্ন গ্রামের তরুণরা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ এলাকা লকডাউন করতে শুরু করছেন।

শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এ গ্রামে ও রাস্তা ব্যবহার করে অবাধে ট্রাক ইট, বালু ও জিমর মাটি পরিবহন করছে একটি চক্র। এ গ্রাম বহিরাগতদের রয়েছে আনাগোনা। গ্রামবাসীদের সু-রক্ষার চিন্তায় গ্রামের ছাত্র, যুবক ও তরুণরা স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশ পুতে ব্যারিকেড দিয়েছে।

বহিরাগতদের এ সময়ে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে গ্রামের মানুষজন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বা জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে গেলে হাত মুখ ধোয়ে বাহিরে যাচ্ছেন আবার হাতমুখ ধোয়ে প্রবেশ করছেন।

একই অবস্থা দেখা গেছে স্বেচ্ছায় লকডাউন হওয়া অন্য গ্রামে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক পতনউষার ইউনিয়নের উত্তর পতনউষার গ্রামের চারটি বাড়ির ৫টি পরিবারকে লকডাউনে রাখার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলো করোনাভাইরাস আক্রান্ত নন। তবে তারা রাজনগরের আকুয়া গ্রামের লকডাউন এলাকা থেকে এসেছেন। তাই আপাতত কিছুদিন আলাদাভাবে থাকতে হবে। সে জন্য এই চারটি বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। আর কমলগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম স্বেচ্ছায় লকডাউনে যাওয়ার খবরও পেয়েছি। গ্রামবাসীর নিজেদের সু-রক্ষা নিশ্চিত করতে নিজেরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − four =