আমি চেয়ারম্যান : আমি চোর! 2

আমি চেয়ারম্যান : আমি চোর!

সারাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশে চলছে অলিখিত লকডাউন। আর এতে বেকার হয়ে পড়েছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বেসরকারি ভাবে দেয়া হচ্ছে ত্রাণ। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বরাদ্দ দেয়া সরকারি চাল বিতরনে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক জায়গায় চাল চুরির দায়ে আটক, জেল, জরিমানা হচ্ছে।

সরকারি ত্রাণ নয় ছয় করায় জনপ্রতিনিধিদের অনেকে চোর বলে গালিও দিচ্ছেন। দেশে যখন এমন অবস্থা ঠিক সে সময় ফেসবুকে আবেগময় স্ট্যাটাস দিলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ২ নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু। তার স্ট্যাটাস হুবহু দেয়া হল:

আমি চেয়ারম্যান : আমি চোর! 3

ভাই আপনি আমাকে এড়িয়ে চলেন। আমি করোনার চেয়েও ভয়ংকর। কারন আমি চেয়ারম্যান। আমি চোর।চাল, গম, আলু, পটল, পিয়াজ যা পাই তাই চুরি করি।

সরকারী বরাদ্দ কত আর সাহায্যে নেয়ার লোক কত? আমি যে এই করোনার ভয় উপেক্ষা করে বউ ছেলে মেয়ে ফেলে রেখে রাস্তায় পড়ে আছি। আমি যে পরের বাড়িতে খেয়ে, না খেয়ে দিনভর মানুষের খোঁজ নিচ্ছি তাদের নামের তালিকা পাঠাচ্ছি, এলাকায় কে কোত্থেকে এলো, কোয়ারেন্টাইন করছে কিনা ঠিকমত, কার শারীরিক অবস্থা কেমন, কতজন বৃদ্ধ লোক আছেন, কেমন আছেন তারা? নিজের ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা করা ( তাও আবার বলেন আরে এ গুলো তো সরকারি টাকাই বলে আর কি নিজের) । কতগুলো বাজার আছে সবখানে আমার গ্রাম পুলিশ স্প্রে করেছে কিনা, আপনার বাড়ির পাশে আড্ডা জমে কিনা, কতজন একজায়গায় বসে লুডু খেলছে ইত্যাদি হিসেব রাখছি।তার কারন আমি চুরি করবো সেই নেশা। এই যে বসে বসে লিখছি, খোলা চিঠি কিংবা ভিডিও আপলোড দিচ্ছি ফেবুতে তার কারন আমাকে চুরি করতে হবে।

ইউনিয়নে যে ৫৪ টা মসজিদ, ৫ টা মাদ্রাসা, ৩ টা মহিলা মাদ্রাসা ১৪ টা দূর্গা মন্দির, ১৬ টা হরিমন্দির, ৩ টা কালি মন্দির আছে ওখানে জমায়েত হচ্ছে কিনা তার খোঁজ রাখছি কারন ঐ একই আমি চুরি করতে চাই।বৎসরে ৩২-৩৫ লক্ষ টাকার কাজ আসে ইউপিতে; সব খেয়ে ফেলতে চাই। অতঃপর কাগজ কলম থেকে শুরু করে জমি জিরাত, মাল মসলা সব খেতে চাই। উপায় একটাই ‘চুরি’।

আপনার সপ্তাহে ছুটি আছে, সিএল, ইএল, মেডিকেল, ট্যাুর আরো কত ছুটি। আমি পুলিশের মত ২৪/৭। কোন ছুটি নেই। রাত একটায়ও নামতে হয় আবার ভোর পাঁচটায়ও। এইযে খাটুনি খাটি কেন জানেন? নেহায়েত ‘চুরি’। আপনার ট্রাভেলিং কনভেন্স আছে, উৎসব ভাতা আছে, পিএফ, গ্রাচুইটি সব আছে।

আমি মাসে দশ হাজার টাকা সম্মানী(!) পাই। আপনার কোন অডিট নাই। নিশ্চিন্তে মাসিক বেতন। আমার চোদ্দরকমের অডিট, ওপরওয়ালার অভাব নাই। এতসব কেন সহ্য করি জানেন? উত্তর সহজ ‘চুরি’।

আপনি প্রথম শ্রেনীর কন্ট্রাক্টর ; আপনি ইট, বালু,রড, সিমেন্ট থেকে শুরু করে সবকিছু চুরি করে আজ এগারতলার মালিক, আপনি রাস্তার ইট, বিশ্ববিদ্যালয়ের রড, লেবার বিল চুরি করে আজ কোটিপতি, আপনি চোর নন আপনি সাধু,সন্যাসী। কারন আপনি জনপ্রতিনিধি নন।

আমি জনপ্রতিনিধি, তাই চোরও। আপনি সেবা দেওয়ার নাম করে মানুষের মাঝে অসহ্য যন্ত্রণা বিতরন করেন, আপনি চোর নন আমি চোর।

আপনি মাপে কম দেন, পচা বাসী খাবার খাওয়ান আপনি চোর নন আমি চোর।

আপনি মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে মুনাফা করেন আপনি চোর নন আমি চোর। আপনি ঘুষ খেয়ে পেট ঢোল বানিয়ে ফেলেছেন আপনি চোর নন আমি চোর।

আপনার ক লিখতে গেলে কলম ভাঙ্গে তিনটা, আপনি বড় অফিসার, আরাম কেদারায় বসে বসে চোখ বন্ধ করে ভবিষ্যতের অলীক স্বপ্ন দেখছেন আর ফাইল আটকে দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছেন। আপনি চোর নন আমি চোর। আপনি মহান পেশায় নেমেছেন অথচ কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন, আপনি চোর নন আমি চোর। আপনারা মানুষের সেবার জন্য ডাক্তার হয়েছিলেন খামাখা কতগুলো টেষ্ট ধরিয়ে দেন আর অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখেন।আপনারা চোর নন আমরা জনপ্রতিনিধিরা চোর।

আপনার ছেলে ডাক্তার হতে চায়, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, হিসাববিদ হতে চায় আপনার আয়ের সাথে ব্যায়ের সামঞ্জস্য নেই। আপনি তবুও চোর নন আমি চোর। আমি মাসে সন্মানি ভাতা পাই ১০,০০০/- আমাকে ২৪/৭ খাটতে হয়।

মানুষের কাছাকাছি থাকতে হয়।আমাকে মুরগী চুরির বিচার থেকে শুরু করে খুনের মামলারও মধ্যস্ততা করতে হয়। আপনারা যারা সেবা নিতে আসেন তাদেরকে ১ কাপ চা আর দুটো বিস্কুিট খাওয়াতেই মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার উপরে খরচ আছে। না দিলে তো বলবেন চেয়ারম্যানের বাড়ী গেলাম এক কাপ চাও দিল না -।

আমার চাওয়া থাকতে নেই, পাওয়া থাকতে নেই। আমার চার সদস্যের পরিবার তিন ভাগ হয়ে আছে ওকথা বলতে নেই। আমার সাধ আছে, আহ্লাদ আছে, সেটা প্রকাশ করতে নেই। ইন্ডিয়ায় যেখানে পঞ্চায়েত প্রধান ২৫,০০০/- রুপি বেতনের সাথে জীপগাড়ি পায় আমি সেখানে গ্রামপুলিশের চেয়ে একর‌্যাংক ওপরে দশ হাজার টাকা ভাতা পাই। গাড়ি?? ওরে বাবা চোরের আবার গাড়ি? ভালো থাকুন আপনারা।
“কেষ্ট বেটাই চোর”
“তবে আমি এই বিপদে মাঠে আছি এবং থাকব”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 8 =