আজ পহেলা ফাল্গুন, প্রচারণার অভাবে বিভ্রান্তি! 2

আজ পহেলা ফাল্গুন, প্রচারণার অভাবে বিভ্রান্তি!

পহেলা ফাল্গুন আজ। পাখির ডাক আর ফুল ফুটার আকুলতা নিয়ে আমাদের দ্বারে ঋতুরাজ বসন্ত ফাল্গুনের আগমন ঘটেছে।

বিশেষ করে শিমুল ও পলাশের ফুটন্ত পাঁপড়িতে কবি লিখে দিয়েছে কবিতার ছন্দ। মর্মে মর্মে জেগে উঠছে আনন্দ বার্তা। বাংলার আবাহন কালের যুবাদের কাছে ভালোবাসার মাস ফাল্গুন।

যৌবনের আত্মিক এক অনাবিল প্রেরণার উদ্ভাসিত বসন্ত সময়। টগবগ হৃদয়ে অশ্বারোহী প্রেমিক যেন ছুটছে দিকবিদিক। এই লালিত স্বপ্ন ও গৌরবে বার বার মনের আখরে দোলা দিয়ে ঘটে প্রতি বছর বসন্তের আবির্ভাব।

এ যে অপুর্ব এক জীবনের কলগানের প্রাণ উচ্ছাস। অন্তরের সকল দুঃখকে ছেড়ে পবিত্রতার এক মেইল বন্দন। যা শুধুই জিবনকে ছুঁয়ে দেখার নির্ভেজাল আত্মিক স্পন্দন।

কবির ভাষায় বলতে গেলে শেষ আবেগটি আমাদের ফুল ফুটুক আর না ফুটুক কাল বসন্ত ফাল্গুন। আহা কি আনন্দ প্রাণে। আহা কি জীবন জাগরণে খুলে গেছে চিত্ত আজ নব উল্লাসে। বসন্ত আসে দ্বারে নব সাঁজে।

প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি আর ১লা ফাল্গুন এটাই ছিলো গতানুগতিক বসন্ত বরণের দিন। সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বদলে গেছে সেই দিন। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, দিনটি পয়লা ফাল্গুন।

অনেকেই জানেন না এই পরিবর্তনের খবর। দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারিকে পয়লা ফাল্গুন হিসেবে যারা বসন্তবরণের উৎসব পালন করে আসছেন, তাদের অনেকেই বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সকাল বের হয়েছেন বাসন্তি সাজে। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বসন্ত উৎসব পালনেরও খবর পাওয়া গেছে।

অনেকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সকাল থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর এই দিনের মেমোরি শেয়ার করেন অনেকেই। অনেককে দেখা যায় পয়লা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা জানাতে।

একজন বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে জানি ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুন। আজ এসে শুনি দিনটি নাকি বদলে গেছে। বদলে যাওয়ার বিষয়টি যদি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো তবে হয়তো এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’

বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এই পরিবর্তনটা সঙ্গতঃ কারণেই হয়েছে।

বাংলা একাডেমি কর্তৃক বাংলা মাসের তারিখ বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রথম ৬ মাস ৩১ দিনের দেয়া হয়। বাকি ৬ মাসের মধ্যে ফাল্গুন ব্যতিত আর বাকি ৫ মাস ৩০ দিনের দেয়া হয়, আর ফাল্গুন মাস ২৯ দিনে। কিন্তু এ বছর (২০২০ সালে) ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাস ‘লিপ-ইয়ার’ (অধিবর্ষ) অর্থাৎ ২৯ দিনে হওয়ার কারণে বর্তমান বাংলা বছরের ফাল্গুন মাসও একদিন বেড়ে ৩০ দিনের হয়ে গেছে। তাই এই এক দিনের গড়মিল।

তবে যথেষ্ট প্রচারণার অভাব ছিলো এ কথাটি তিনিও মেনে নিয়ে বললেন- হ্যা, বাংলা একাডেমির উদ্যোগে এ বিষয়ে আরো প্রচারণার প্রয়োজন ছিলো।

এ নিয়ে অন্ততঃ অসংখ্য ফোনকল আমাকে রিসিভ করতে হয়েছে। আপনাদের সিলেট থেকেও অনেকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আমিও অনেক ব্যস্ততার মাঝেও সবাইকে যথেষ্ট সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলেছি।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদের সভায় ২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটির তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পয়লা ফাল্গুন ১৩ ফেব্রুয়ারি নয়, উদযাপিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 3 =