অরক্ষিত জৈন্তাপুরে-গোয়াইনঘাট সীমান্ত 2

অরক্ষিত জৈন্তাপুরে-গোয়াইনঘাট সীমান্ত

সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচাঁর হচ্ছে খাদ্যশস্য মটরশুটি, মশুরী ডাল, ছানাডাল বাংলাদেশের আমদানীকৃত রসুন, স্বর্ণের বার ও বাংলাদেশী মুদ্রা। বিনিময়ে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, নিম্নমানের চা-পাতা, কসমেটিক্স, সুপারী, হরলিক্স, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, নাছির বিড়ি ও ভারতীয় গরু।

দিন-কিংবা রাতে সমান তালে এসব পণ্য সামগ্রী আদান-প্রদান হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট, সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি, সোনাটিলা, উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রী, তামাবিল, নলজুরী এবং জৈন্তাপুর উপজেলার খাঁসিনদী, আলু বাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, মিনাটিলা, ছাগল খাউরী নদী, কাঠাঁলবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, কেন্দ্রীবিল, ডিবিরহাওর, ডিবিরহাওর (আসামপাড়া), ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গুয়াবাড়ী, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জী, ময়না, জালিয়াখলা, লালাখাল, লালাখাল গ্রান্ড, জঙ্গীবিল, বাঘছড়া, তুমইর, বালিদাঁড়া, ইয়াংরাজা ও সিঙ্গারীরপাড় দিয়ে ভারতে পাঁচার হচ্ছে খাদ্যশস্য।

অরক্ষিত জৈন্তাপুরে-গোয়াইনঘাট সীমান্ত 3
বৃত্তাকার চিহ্নের ভেতর দুই ব্যক্তি খাদ্যশস্য পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ছবি : প্রতিনিধি

সন্ধ্যা হতে না হতেই জৈন্তাপুর বাজার হতে বড় বড় ট্রাক যোগে নিয়ে আসা খাদ্যদ্রব্য মটরশুটি, মশুরী ডাইল, চানা ডাল, বাংলাদেশের আমদানীকৃত রসুন ছোট ছোট পিকআপ, ডিআই ট্রাক, ব্যাটারী চালিত টমটম যোগে সীমান্তের উল্লেখিত পয়েন্টে সমুহে নিয়ে যাওয়া হয়।

সম্প্রতি উপজেলার সচেতন মহল মনে করছে সীমান্ত প্রশানের নিরবতার কারণে চোরাকারবারীরা উৎফুল্ল আনন্দে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী ভারতে পাচার করছে।

জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা প্রবীন শিক্ষক বলেন, আগে শুনেছি গভীর রাত হলে কিছু সংখ্যাক ব্যক্তি সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চেরাইপথে পণ্য সামগ্রী আদান প্রদান করত। তারা খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য বাংলাদেশে নিয়ে আসত। তারমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসব মালামাল আটক করে বিভিন্ন চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করত। কখনও নির্ধিদায় ভারত থেকে মদ মাদক সামগ্রী বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারত না। যদি কখন ও এসব মদকদ্রব্য বাংলাদেশে নিয়ে আসত তাহলে অন্যান্য চেরাকারবারীরা প্রতিহত করত।

এবিষেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা অধিনস্থ দুটি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন ক্যাম্প ও কোম্পনাী কামান্ডারদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। আমরাও বিভিন্ন ভাবে মালামাল আটক করছি। লাইনম্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিজিবির কোন লাইনম্যান বা সোর্স নাই। আমাদের নামে কেউ আর্থিক লেনদেন করলেও কখনও অভিযোগ আসনি।

নাজমুল ইসলাম/জৈন্তাপুর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 3 =